মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী এর একটি তুলনামূলক পাঠ (1st part)

~সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (১৯০৩ – ১৯৭৯) এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী (১৯১৪ – ১৯৯৯) একটি তুলনামূলক পাঠ~

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মওদূদী এবং নাদভীর অভিমত এখানে পরপর সংক্ষেপে উপস্থাপন করে দুজনের চিন্তার মিল এবং অমিল খুঁজে দেখব।

প্রথম প্রসঙ্গ -- ইসলামী রাষ্ট্র -- সম্পর্কে দুজনের  মতামত উপস্থাপিত হল।

লেখক: মনোয়ার সামসি সাখাওয়াত 


১. ইসলামী রাষ্ট্র প্রসঙ্গে

মওদূদী – মওদূদীর কাছে ইসলামের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম করা; এক্ষেত্রে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত দল জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামী বিপ্লবের একটি অগ্রবর্তী দল হিশেবে দেখতে চেয়েছেন। এজন্যে তিনি তরুণ প্রজন্মকে যুক্তি দিয়ে ইসলামী ব্যবস্থার উৎকর্ষ বোঝাবার কথা বলেছিলেন। তিনি মনে করতেন যে অন্যান্য ব্যবস্থা যেমন ধনতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও জাতি-রাষ্ট্র হল বিভিন্ন মানব রচিত একক বা সামষ্টিক তত্ত্ব যার সবই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। ফলে এগুলি সবই ইসলাম ও মানবতা বিরোধী। তিনি মনে করতেন যে সংগ্রাম এবং বিপ্লবের মূল নিহিত রয়েছে দ্বীন বা ধর্মে; অর্থনীতি, রাজনীতি বা সংস্কৃতিতে নয়। এজন্য তিনি চলতি ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের লক্ষে বিকল্প শাসন ব্যবস্থা হিশেবে দিব্য-গণতন্ত্রের ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন।

নাদভী – নাদভী ইসলামী শাসন বলতে যা বুঝেছেন তা সহিংস পন্থায় অর্জন করাকে তিনি উৎসাহিত করেননি; তিনি ইসলামের সত্য অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন এবং সেইসঙ্গে শাসকদের সংস্কারের কথাও বলেছেন। তিনি সামাজিক সংস্কার, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের পক্ষে কথা বলেছেন কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের কথা বলেননি। তিনি মওদূদীর তীব্র সমালোচনা করেছেন এই কারণে যে মওদূদী বলেছিলেন যে আল্লাহ নবী রাসুলদের দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার মিশন দিয়ে। নাদভী মনে করতেন এটা নবী রাসুলদের মিশনকে ভুল বোঝার নামান্তর। তিনি বলেছেন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা মানেই দ্বীন বা ধর্ম প্রতিষ্ঠা নয়; ইসলামী রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ইসলাম নয় বা ইসলামের মূল লক্ষ্য নয়; এটিকে বরঞ্চ সম্পূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠার একটি উপায় হিশেবে দেখতে হবে। অর্থাৎ এটাই এন্ড নয় এটা হল মীনস।

(চলবে)

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

"ভালোবাসার সঞ্জীবনী" - সাহিত্য//সৈকত

"ভালোবাসার সঞ্জীবনী"

একসময় ধরেই নিয়েছিলাম, এ দুনিয়ায় আমার হয়তো কোনো soulmate বা প্রাণসখী নেই ।

থাকলেও তার দর্শন যে এখনো পাওয়া হয় নেই।
কিন্তু তুমি দেখা দিয়ে আমার সে ধৃত ধারণা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে।

যাকে দেখলে মন শান্ত হয়- সেই সুন্দর।

সে হিসেবে তুমি অতীব সুন্দর। তাই তোমায় দেখে আমার প্রথম কথাটাই ছিলো, মাশাল্লাহ্।

ভালোবাসার ব্যাপক সংগা আমার জানা নেই ।
তবে এটুকু জানি,
ভালোবাসতে শিখলে আপেক্ষিক দুনিয়াটা অনেক বেশি রঙিন মনে হয়;
হৃদয় গান গায়;
হৃদয়ের ভেতর থেকে কারও জন্য একটা খুব টান অনুভূত হয়।

তোমায় দেখে আমার এ সবটাই হয়েছিলো।

যদি একে সত্য ভালোবাসা হিসেবে মানো-
তো আমায় বরণ করে নিও।
আর যদি মোহ হিসেবে নাও-
তবে তাকেও আমি ভালোবাসা বলে প্রমাণ করে দিবো।
.
তোমায় দেখেছি ক্ষণকালের জন্যে ।
হয়তো সময়টা ছিলো এক সেকেন্ড বা তার চেয়েও নগন্য।
তখনো বুঝিনি আমি- কি দেখিলাম এ ধরায় আজি।
বুঝেছি এখন সাঝে - খুব করে এ হিয়ার মাঝে।

তোমার ব্যাপক উপস্থিতি এ হৃদয়ে তোলে আজ প্রশান্তের ঢেউ।
তার বিশালতায় ডুবেছি আমি, ভেসেছি অথৈ জলে-
তুমি ছাড়া উদ্ধারের নেই আর কেউ।

সে ঢেউ বড়ই ভয়াবহ, উশৃঙ্খল অথচ শান্ত,গুরুগম্ভীর।
তার উন্মত্ততায় এ হৃদয় আজ দুমড়ে-মুচড়ে একাকার।
তবুও সে আহত হৃদয়ের ভাষা তোমার কানে পৌঁছায়নি যে একটিবার!
.
জীবনে দেখেছি প্রথমবার-
যা চেয়েছে এ শান্ত মন অশান্ত হয়ে বারংবার।

দেখেছি তোমার রূপ, তোমার মাধুর্য;
শুনেছি তোমার প্রশংসা, যত ঐশ্বর্য।
হাজারও সাধুবাদ বুঝি কম পড়বে তোমার ঐ রূপের কাছে-
সুন্দর চাঁদটাও মুখ লুকাবে- তারও যে কলঙ্ক আছে।
.
তোমায় ভাবছি আর লিখছি
আর ক্ষণেক্ষণে ফেলছি দীর্ঘশ্বাস-
সে নিঃশ্বাস বাতাসে বিক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ করে তোমায় নিয়ে আমার যত উন্মাদনা, যত উচ্ছ্বাস।

আমার প্রতিটা শ্বাস প্রমাণ করে দুই যুগের তরে তোমায় দেখা না পাওয়ার শত আক্ষেপ, শত ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি।
আবার ক্ষণিকেই প্রশান্তিময় প্রশ্বাসে সে আক্ষেপ প্লাবিত হয়ে উচ্চারিত হয় তোমায় দর্শনের জয়োধ্বনি।
.
তুমি আমার কাছে এমনই-
খুব ভালো থাকা কিংবা মন্দ থাকার বিপরীত মিশ্র অনুভূতি;
কখনো তা সজীবতা আনে
কখনোবা ধুম্রজালের আপেক্ষিকতায় খুঁজে পাই না ভালো থাকার কোনোই মানে।

তুমি আমার বেঁচে থাকার নিদারুণ প্রাণশক্তি,

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় এক অদ্ভুত সঞ্জীবনী।   
.
-সাহিত্য//সৈকত

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মনে থাকবে? -আরণ্যক বসু

মনে থাকবে?
-আরণ্যক বসু



পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক

আমরা তখন প্রেমে পড়বো

মনে থাকবে?


বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে

শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;

সন্ধে হলে বসবো দু'জন।


একটা দুটো খসবে তারা

হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার

চোখের জল গড়াবে,


কান্ত কবির গান গাইবে

তখন আমি চুপটি ক'রে দুচোখ

ভ'রে থাকবো চেয়ে...

মনে থাকবে?


এই জন্মের দূরত্বটা পরের

জন্মে চুকিয়ে দেব

এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের

জন্মে থাকে যেন

এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের

জন্মে থাকে যেন

মনে থাকবে?



আমি হবো উড়নচন্ডি

এবং খানিক উস্কোখুস্কো

এই জন্মের পারিপাট্য সবার

আগে ঘুচিয়ে দেব


তুমি কাঁদলে গভীর সুখে

এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব....

মনে থাকবে?


পরের জন্মে কবি হবো

তোমায় নিয়ে হাজারখানেক গান

বাঁধবো।

তোমার অমন ওষ্ঠ নিয়ে

নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে

গান বানিয়ে__

মেলায় মেলায় বাউল

হয়ে ঘুরে বেড়াবো...

মনে থাকবে?



আর যা কিছু হই বা না হই............

পরের জন্মে তিতাস হবো

দোল মঞ্চের আবীর হবো

শিউলিতলার দুর্বো হবো

শরৎকালের আকাশ দেখার__

অনন্তনীল সকাল হবো;

এসব কিছু হই বা না হই

তোমার প্রথম পুরুষ হবো

মনে থাকবে?



পরের জন্মে তুমিও হবে

নীল পাহাড়ের পাগলা-ঝোরা

গাঁয়ের পোষাক ছুড়ে ফেলে

তৃপ্ত আমার অবগাহন।

সারা শরীর ভ'রে তোমার হীরকচূর্ণ

ভালোবাসা।

তোমার জলধারা আমার

অহংকারকে ছিনিয়ে নিল।




আমার অনেক কথা ছিল

এ জন্মে তা যায়না বলা

বুকে অনেক শব্দ ছিল__

সাজিয়ে গুছিয়ে তবুও ঠিক

কাব্য করে বলা গেল না!


এ জন্ম তো কেটেই গেল অসম্ভবের

অসঙ্গতে

পরের জন্মে মানুষ হবো


তোমার ভালোবাসা পেলে

মানুষ হবোই__ মিলিয়ে নিও!



পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...

বলতে ভীষণ লজ্জা করছে

ভীষণ ভীষণ লজ্জা করছে



পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...

মনে থাকবে?

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Koi Tum Se Pooche Kon Hon Main Tum Keh Dena Koi Khas Nahi


Poet Zeeshan Waqar
Koi Tum Se Pooche Kon Hon Main,?
Tum Keh Dena koi Khas Nahi,
Ek Dost Hai Kacha Pakka Sa,
Ek Jhoot Hai Aadha Sacha Sa,
Jazbat Ka Chupa Ek Parda Sa,
Ek Bahana Hai Acha Sa,

Jeevan Ka Ek Aisa Sathi Hai Jo Door Ho K Pas Nahi,
Hawa Ka Ek Suhana Jhonkha Hai,
Kabhi Nazuk To Kabhi Toofano Sa,
Shakal Dekh Kar Jo Nazrain Jhuka Le,
Kabhi Apna To Kabhi Begano Sa,
Zindgi Ka Ek Aisa Humsafar,
Jo Samandar Hai Par Dil Ko Pyas Nahi,
Ek Humsafar Jo Dil Ki   Un Kahi Batain Keh Jata Hai,
Yadon Mein Jis Ka Ek Dhundla Chehra Reh Jata Hai,
Youh To Us K Na Hone Ka Ghum Hamesha Satata Hai,
Par Kabhi Kabhi Aankhon Se Aansu Ban K Beh Jata Hai,


Yuh rehta toh mere tassavur me hai,
Par in aankho ko uski talaash nahi.


Koi Tum Se Pooche Kon Hon Main,?
Tum Keh Dena Koi Khas Nahi,
Ek Dost Hai Kacha Pakka Sa...............!

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিদায়- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদায়
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন।
ওগো বন্ধু, সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল–
তুলে নিল দ্রুতরথে
দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
তোমা হতে বহুদূরে।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে
পার হয়ে আসিলাম
আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়,
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।
কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে,
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা-স্বপ্নের মুরতি।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়,
সে আমার প্রেম।
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়।
হে বন্ধু, বিদায়।
তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃত-মুরতি
যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা।
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লানস্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।
তোমার মানসভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়,
তার সাথে দিব না মিশায়ে
যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
আজও তুমি নিজে
হয়তো বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।
হে বন্ধু, বিদায়।
মোর লাগি করিয়ো না শোক,
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ-রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
তোমারে যা দিয়েছিনু, তার
পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান
হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।
– বিদায়

ভালবাসার যত রূপ...।।

ভালবাসার যত রূপ...।।
সাহিত্য (আবদুল্লাহ আল মামুন)



আজোও বুঝিনি - ভালোবাসা কি!
এখন হয়ত বুঝি।

ভালোবাসা মানে, প্রিয় মানুষের ভালোলাগাগুলো.. আনমনে ভালো লাগা।
তার ভালোলাগার কাজগুলো করা।

তার চোখে চোখ রেখে, আমার জন্যে তার
হৃদয়ের গভীরতা অনুভব করা।

ভালোবাসা মানে - মনের মানুষকে সবসময়
কাছে পাবার নি:শব্দ কামনা।
কাছে পেলে... কাঙ্খিত মুহুর্তটাকে স্মরনীয় করে রাখা।
আর না পেলে??

না পেলে... নি:সঙ্গ মুহুর্তের মধ্য দিয়ে.... তার অভাব, মর্ম, কদর অনুধাবন করা।
তার জন্যে অনেক অনেক
শুভকামনা করা।

ভালোবাসা মানে- একলা ঘরে আমাকে দেয়া প্রিয় মানুষটার মূল্যবান উপহারগুলোতে হাত বুলানো।
তার ব্যবহৃত জিনিষগুলোর দিকে তাকিয়ে,
তাকে অনুভব করা।
আর তার আবেশে তাকে যেমন দেখতে...
তা কল্পনায় নিরুপন করা।

ভালোবাসা মানে- চলন্ত বাসে পাশের ফাঁকা সিটটাতে...
প্রিয় মানুষের স্পর্শ অনুভব করা।
ভালোলাগার আবেশে অনেক দূরের যাত্রাও..
কাছের মনে হওয়া।
ক্লাসে...!!!
ক্লাসে পাশের ফাঁকা বেঞ্চটাতেও তার উপস্থিতি অনুভব করে,
তার দিকে তাকিয়ে থাকা।
আর রিক্সায় পাশাপাশি বসে, তার ঘ্রাণে মেতে থাকা।

ভালোবাসা মানে- খাবার সামনে নিয়ে হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যাওয়া।
প্রিয় মানুষটা খেল কি না!!! তা জানার জন্যে নিজের মনের সাথেই কথা বলা।
এক টেবিলে বসে, এক সাথে খাবার ইচ্ছে জাগা।


ভালোবাসা মানে- অবসরে প্রিয়জনের কন্ঠের মধুরতা, আর কথার মিষ্ঠতা স্মরণ করা।
শত ব্যস্ততার মাঝেও..
তার মিষ্টি মুখের মিষ্টি হাসি হঠাৎই মনে পড়ে
স...ব গ্লানি মুছে যাওয়া।


আমায় বিশ্বাস কর, মন থেকে বলছি-
তোমায় নিয়ে আমার অনুভূতিগুলোর সম্পর্কে,
আমি এক চুলও মিথ্যে বলিনি।

শুধু পাওয়া মানে ভালোবাসা কিনা, কিংবা
না পাওয়ার মাঝেই ভালোবাসার মর্মার্থ নিহিত কি না, তা আমি জানি না।
ওসব জানতেও চাই না।

আমি বিশ্বাস করি-
ভালোবাসা থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,
মনের সাথে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বাঁধা।


জেনে রেখো............
সে বন্ধন যদি সত্য হয়!
তবে সারা পৃথিবী আমাদের বিপক্ষে গেলেও, মিলবো দুজনে স্রষ্ঠার অসীম কৃপায়।

তাই ভালোবাসা মানে,
নিজের সর্বস্ব দিয়ে মনের মানুষটিকে জয় করা।
আর এর চুড়ান্ত পরিনতি, তাকে অর্জন করা।

হোক সে অর্জন,
ইহোলোক বা পরোলোকের...
অনন্ত মহালগ্নে......!

সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯

জীবনটা এতো কঠিন না হলেও পারত!

জীবনটা এতোটা কঠিন না হলেও পারত!
তোমার আমার সম্পর্কের বেড়াজালে আজ হাজারো শবের আর্তনাদ! এই ভারী বাতাসে শ্বাস নেয়া যায়না।
তোমার ভালোবাসার বোঝা বয়ে বেড়াবার শক্তিটুকুও আজ নেই। কান্নাগুলোও আজ দেয়ালে বারি খেতে খেতে বাষ্পে ভেসে গিয়েছে, তারা আর জল হয়ে গড়ায় না।
জীবনটা এতো কঠিন না হলেও পারত!


সেই সুদূর কোন এক অতীতে ফেলে আসা, আমার সেই ছোট্ট আদরের ভালোবাসার আগমন,
এক ধারালো ছুরির মতন, মুর্হুতেই চিড়ে দিলো, আমার আস্থায় গড়া এক বন্ধন।

নিজের অনুভূতিগুলো আজ এতোটাই নির্বাক, যে এই দমবন্ধ আর্তনাদ থেকে কোন মুক্তি নেই আমার। মৃুত্যু এত কঠিনও হয়!!
প্রতিনিয়ত জ্বলছি, প্রতিনিয়ত মরছি। কেউ কি দেখছো আমায়!!

আমার এই ক্ষত, এত বিষাক্ত!
পারছিনা ভালোবাসার মানুষগুলোকে বাঁচাতে। এক এক করে শুধু হত্যাই করে চলছি।
রক্তে ভরা হাত আমার,
আমার জীবনটা এত কঠিন না হলেও পারত!







বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

Mazlish Ghazzali by Imam Al Ghazzali (rh.)

বৃষ্টির প্রচন্ড আলস্যের আসক্তি থেকে আপনারা নিরাসক্ত হতে পারেন, আমি ঠিক পারি না!! আর তাই তো গতকাল মিস করে গিয়েছি পোষ্ট দেয়াটা...

আসুন একটা ভিন্ন ধর্মের বই ঘাঁটি আজ, একদম ছোট্ট, মোদ্দা কথাগুলো তুলে ধরব।

পর্ব ১

ইমাম গাজ্জালীকে অনেকেই চেনেন। তাঁকে "হুজ্জাতল ইসলাম" বলা হয়। ছোট্ট করে তাঁর সম্পর্কে বলতে গেলে, আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালি, ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতার নামটিও ছিল তাঁর নামের অনুরূপ, মুহাম্মদ। মৃত্যুবরণ করেন ১১১১ সালে।

গাজল অর্থ সূতা, নামকরনের এই সামঞ্জস্যতা তাই তাঁর বংশকে গাজ্জালী নামে পরিচিত করেছে।


ইমাম গাজ্জালি (রহ•) ৪০০ ও অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তার অধিকাংশ বইগুলোতে ধর্মতত্ব, দর্শণ ও সুফিবাদ আলোচনা করেছেন।

আজকের যে বইটি থেকে সামারি দেব, সেটি হচ্ছে "মাজলিসে গাজ্জালী" এটা তাঁর বিশেষ মজলিসে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্যে দেয়া কিছু "নসিহত" বা "উপদেশের" সমষ্টি।

বইটির অনুবাদক এর নাম জানি না। (বড়ই লজ্জিত!)

আমি বইটি থেকে কিছু কিছু মূল্যবান উক্তিগুলো তুলে ধরেছি, আসুন পড়ি, চিন্তা করি এবং বোঝার চেষ্টা করি।

১) চারটি কাজ বেশি বেশি করতে পারলে আমাদের আত্মিক উন্নতি খুব দ্রুত সম্ভব।
যা হচ্ছে, ক) কম খাওয়া। খ) কম কথা বলা। গ) কম ঘুমানো এবং ঘ) কম মেলামেশা করা।

২) কেউ যদি "এলেম" বা "জ্ঞান" সম্পর্কিয় কোন প্রশ্ন করে তবে তার (প্রশ্নকারীর) অবস্থা এবং হাল-হাকিকত বুঝে উত্তর দিতে হবে। (কারণ সবাই সব কথা বোঝেনা।)

৩) "সফর" চার প্রকার হওয়া চাই, ক) হজ্জের উদ্দেশ্যে (যার উপর ফরজ)। খ) মদিনা শরীফ যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে। গ) বায়তুল মোকাদ্দাস যিয়ারতের উদ্দেশ্যে। ঘ) ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্যে।

৪) মানুষকে দুনিয়াতেই দুনিয়ার আসক্তি ত্যাগ করা উচিৎ।

৫) আল্লাহ্তালা কখনো কখনো তাঁর প্রেমিকদের উপর রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন আবার কখনো কখনো বিপদ। কিন্তু প্রেমিকরা জানেন ভাল-মন্দ তো সব আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তাই সুখ-দু:খ সব কিছু্কেই তারা আনন্দের সাথে বরণ করে।

৬) "রুহ" দুইভাবে বের হয়। এক, সম্পূর্ণভাবে যেটাকে বলে মৃত্যু, আরেকটি নিদ্রায় গেলে। কারণ যখন সে নিদ্রায় যায়, তখন তো সে নিশ্চুপ থাকে, তার সামনে কোন কথা-বার্তা হলে সে জানে না। কাজেই এটা আংশিক মৃুত্যু। (এর সর্ম্পকে আল্লাহপাক কোরানে বলেছেন, যে কারো কারো রুহ ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি নিয়ে নেন।)

৭) এবার একটা মজার ঘটনা উল্লেখ করব, ইমাম গাজ্জালী আরেক বড় জ্ঞানী আউলিয়া হযরত জোনায়েদ বাগদাদী (রহ:) কথা বলছিলেন, একবার জোনায়েদ (রহ:), এক বিশিষ্ট ইহুদী অালেম ব্যক্তির মজলিসে যান এবং সেখানে সেই ইহুদি অালেম ছিলেন অনেক সমাদৃত। তার কথাকেই সমাজের সবাই এক বাক্যে মেনে চলত। তো সেই ইহুদি আলেম জোনায়েদ বাগদাদী (রহ:) কে তিনটি প্রশ্ন "ইসলাম" ধর্মের উপর জিজ্ঞেস করেন যা সে কোনভাবেই বুঝতে পারেন না। জোনায়েদ (রহ:) শর্ত দেন যদি সে এর উত্তর দিতে পারে তবে তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। ইহুদি আলেম রাজি হয়ে প্রশ্ন করেন,
ক) বেহেশতে এতো পানাহারের পরও কেন প্রসাব-পায়খানার প্রয়োজন হবে না। কিভাবে ??
খ) বেহেশতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার শাখা-প্রশাখা বেহেশতের সকল ঘরের উপর বিস্তার করবে। কিভাবে সম্ভব?
গ) বেহেশতের নিয়ামত যতই খাওয়া হোক না কেন তাহার ঘাটতি হবে না!! কিভাবে??

জোনায়েদ (রহ:) উত্তর দেন,
ক) প্রথম প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, সন্তান যখন মাতৃগর্ভে থাকে তখন সে পানাহার করে, তখন কি তার প্রসাব-পায়খানা প্রয়োজন হয়!!
খ) দ্বিতীয়, পৃথিবীতে সূর্য একটাই অথচ এর আলো সকল গৃহের উপরই পতিত হয়। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জন্যে কি ভিন্ন ভিন্ন সূর্যের প্রয়োজন হয়??
গ) তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, "কোরআন শরীফ"। অগণিত লোক উহা তেলায়াত করে, শ্রবণ করে এবং তার দ্বারা উপকৃত হয় অথচ এর স্বাদ এবং মাধুর্যে কখনোও কোন পরিবর্তন আসে নাই এবং আসবেও না।

(সুবহান্নাল্লাহ..... এই ধরনের অযথা কু-যুক্তি আজোও বহু মানুষ করে অথচ আল্লাহপাক প্রতিটা বাণীর নিদর্শন আমাদের জন্যে দুনিয়াতে রেখেছেন, এই জন্যেই কোরআনে বার বার বলা হয়েছে পড় এবং চিন্তা কর। কোরআন জ্ঞানীদের জন্যে।)

জোনায়েদ বাগদাদী (রহ:) সেই বৃদ্ধ ইহুদি আলেম কে জিজ্ঞেস করেন, আমি আপনার তিনটি প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছি, আমি শুধু একটা প্রশ্ন করব এবং তার উত্তর আপনাকে দিতে হবে....

কি ছিল সেই প্রশ্ন এবং কি ছিল তার উত্তর সেটা জানার জন্যে ইনশাল্লাহ পরবর্তী বুধবারে আমরা আবার দেখা করব, সেই অব্দি, ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

ভাল এবং সার্থক সময় কাটুক, এই কামনায় এখানেই বিদায়।


পর্ব ২:


আমরা আগের পর্বে শেষ করেছিলাম জুনায়েদ বাগদাদী (রহ:) সেই প্রশ্ন না জেনেই, তো আসুন জেনে নেই উনি কি প্রশ্ন করেছিলেন, এবং কি উত্তর ছিল সেই ইহুদি বৃদ্ধ আলেম এর।

জুনায়েদ (রহ:) প্রশ্ন করলেন, হে বৃদ্ধ আলেম, আমি তো আপনার তিনটি প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছি, এখন আপনি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
বৃদ্ধ বলিলেন কেন না! প্রশ্ন করুন।
জুনায়েদ (রহ:) প্রশ্ন করিলেন, বেহেশতের দরজার উপর কি লেখা আছে?

বৃদ্ধ একদম স্তব্ধ হয়ে রইলেন। তার সাগরেদরা তো আলেমকে প্রশ্ন করা শুরু করল, যে কেন আপনি জবাব দিচ্ছেন না! জবাব দিন।
বৃদ্ধ বললেন, আমার জবাব তোমরা সহ্য করতে পারবে? মানতে পারবে?
- অবশ্যই পারব!
অস্বীকার করবে না তো!!
- প্রশ্নই উঠে না অস্বীকার করার।

বৃদ্ধ বললেন, বেহেশত এর দরজার উপর লেখা আছে, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূল্লাহ্"।
(সুবাহানাল্লাহ)

পরবর্তীতে ঐ মজলিসের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে নেয়।


যাক্, এই ঘটনার পরে আমি আবার সেই ছোট ছোট মূল্যবান কথাগুলো তুলে ধরছি।

৮) ধৈর্য্যধারণ এবং চুপ করিয়া থাকাই তোমার পথ, এর চেয়ে উত্তম কোন পথ আমি জানি না।

৯) মোমেনের কর্তব্য হলো, ঈমানের ব্যাপারে সততার আশ্রয় গ্রহণ করা এবং পদস্থলন হতে সর্বদা সতর্ক থাকা।

১০) প্রশ্ন করা হয়, "প্রতিমা" কি?? ইমাম গাজ্জালী উত্তর দিলেন, যে বস্তুই তোমাকে আল্লাহ হতে দূরে রাখে, তাই প্রতিমা।

১১) কিছু অনভিজ্ঞ লোক দরবেশী পোশাক পরিধান করে থাকে। মুখে থাকে ধর্মের বাণী, অন্তরে কুফরী।

১২) আল্লাহ নিকট লজ্জিত হওয়া মোমেন বান্দার কর্তব্য। কারণ, লজ্জা ঈমানেরই অংশ। বরং ঈমানের আত্মা।

১৩) মানুষের অজ্ঞতা অগ্নিস্বরুপ।

১৪) "এই সময়ও অতিবাহিত হয়ে যাবে।" অর্থাৎ বর্তমান।

১৫) নিদ্রা তিন প্রকার। ক) আল্লাহর জন্যে নিদ্রা খ) আল্লাহর সাথে নিদ্রা। এবং গ) আল্লাহ হইতে নিদ্রা। অর্থাৎ,
      ক) আল্লাহর জন্যে নিদ্রা : যে ব্যক্তি ইবাদত বন্দেগী করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরে তখন, একটু বিশ্রাম নিয়ে পূর্নদ্যোমে আবার ইবাদত করার জন্যে যে নিদ্রায় যায়, তাকে আল্লাহর জন্যে নিদ্রা বলে।
      খ) আল্লাহর সাথে নিদ্রা: যে ব্যক্তি যিকির-ইবাদত করতে করতে ঘুমিয়ে পরে সে অাল্লাহর সাথে নিদ্রায় যায়।
      গ) আল্লাহ হইতে নিদ্রা: আল্লাহর এবাদত বন্দেগীতে হতে বিরত থেকে যে নিদ্রায় যায়। আর এটাই হচ্ছে আমাদের নিদ্রা। নফসের প্রতিপালন এবং শয়তানের নির্দেশ পালন করার জন্যে এই নিদ্রা।

১৬) চল্লিশ দিনের মধ্যে মোমেন বান্দার উপর কোন বিপদ আসা প্রয়োজন, কেননা মোমেনের বিপদের মধ্যে মঙ্গল নিহিত রয়েছে। সাধারণ লোকও যদি বিপদাপন্ন হয় তবে সেটা দ্বারা তার পাপমোচন হয়। আর যদি কোন সালেক বিপদাপন্ন হয়, তবে তাহার মর্যাদা ও অবস্থার উন্নতি হয়। (আলহামদুল্লিল্লাহ।)

১৭) একের সাথে অন্যের ভালোবাসা পরকালে কোন কাজেই আসবে না, যদি না সে ভালোবাসা আল্লাহর জন্যে না হয়। এছাড়া পার্থিব স্বার্থের বর্শীভূত ভালোবাসা শুধুমাত্র হারাম কাজেই লিপ্ত করে।

১৮) তাওরাত, যবুর, ইনজিল এবং অন্যান্য আসমানী কিতাবে যা কিছু আছে, তার সংক্ষিপ্তসারই আল্লাহপাক কোরআন শরীফে বর্ণনা করেছেন।

১৯) প্রেমের সাথে কাজ আদায় কর, দেখ প্রেমের কি কুদরত।

২০) হেকমতের মনজিল রহমত দ্বারা অতিক্রান্ত করা যায়। সর্বক্ষণ তাঁহারই দয়ার প্রয়োজন হয়।

২১) মহব্বতের সর্বপ্রথম স্তরই হলো বিপদে ধৈর্য্যধারণ করা। অর্থাৎ বন্ধুর পক্ষ থেকে যে বিপদই আসে তা প্রশান্ত চিত্তে বরণ করা।

২২) আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মধ্যে অন্তরায় বা বাধাই হচ্ছে, পাপ ও অপবিত্রতা।

২৩) অসদগুণাবলী যখন পরিবর্তন হয় তখন তোমার সমস্ত সমস্যারও সমাধান হয়ে যায়।

২৪) যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করবে তার পরিনাম অবশ্যই ভালো হবে। যেমন:
    ক) কাহারও উপর অত্যাচার না করা।
    খ) ইসলামের শুকরিয়া আদায় করা।
    গ) ঈমান চলিয়া যাওয়ার ভয় করা।
আর যে অত্যাচারী হয়, মুসলামান হওয়ার শুকরিয়া আদায় না করা এবং ঈমান চলে যাবার ভয় না করে, তবে মনে করবে তাহার পরিনতি খুবই ভয়ংকর।

তো এই ছিল সংক্ষিপ্তসারে তুলে ধরা "মাজলিসে গাযযালী"।

এতো মূল্যবান কথাগুলো, সময় নিয়ে যখন আমরা ভাবব, কিংবা অন্যেদের সাথে আলোচনা করব, তখন আরো বেশি বেশি এর গুঢ় নিহত তত্ত্বগুলো, শিক্ষাগুলো আমাদের ভিতর, আমাদের চেতনায় ধরা পরবে। আমরা আরোও বেশি আত্মস্থ করতে পারবো।
মহান আল্লাহপাক আমাদের সেই জ্ঞান ও হেকমত দান করুক, আমীন।

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭

নি:স্বার্থ ভালোবাসা.....

কাল রাত থেকেই প্রেশারটা বড্ড জ্বালাতন করছে। আর মাইগ্রেনটাও কেমন যেন বাড়ছে। সিটিং রুমে পানির গ্লাস হাতে অরুনা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ছে, চেষ্টা করছে মাথার ভেতরে চলতে থাকা কড়া কড়া সেই কথাগুলোর তীব্র শব্দগুলোকে শান্ত করবার, তার সাথে বাড়তে বাড়তে থাকা নিজের বুকের ব্যাথা।

১৪ টা বছর!! দীর্ঘ একটা সময় নিজের জীবনের। অথচ মনে হচ্ছে এই সেদিনই তো লন্ডনে এলাম, কোলে তখন ২ বছরের আনন্দ, রায়ান। স্বপ্ন আর গায়ের জোর তখন কত তীব্র জীবন্ত, প্রাণবন্ত। তারপর?? তারপর বাস্তব কেমন যেন অস্বাভাবিক হতে লাগল, মনে হচ্ছিল তখন গোটা জীবনীশক্তিকে শুঁষে নিয়ে বাস্তব বলছে, "এখন জীবন চলবে আমার কথায়, তুমি তো হাতের পুতুল!"

মনে আছে, ১ দিনের মাথায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল, তীব্র এক শীতের রাতে, কোথায় উঠব ঠিক নেই, কোন হোটেলে ওঠার সামর্থ্য তেমন নেই, "অর্থ", কাগজের নোটগুলো ভয়াবহ বাস্তবতার আরেক রুপ! ৩ বছরের রায়ান, নিশ্চিত মনে ঘুমুচ্ছে, আর পেটে তখন আরেকটি আনন্দ!! রিহানা। এক বন্ধু, হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে রক্ষা সেই যাত্রা, হয়ত ঠিক মারা যেতনা, কিন্তু সেই দিনের অপমান, অপদস্থতা প্রতিনিয়ত অরুনা কে নাড়া দিয়ে বলছিল, "তুমি কিসের আশাতে এসেছো, এখানে!!" সিটিং রুমে বসে মাথার উপর ছাঁদ, এই বাসাটা দেখছে আর ভাবছে দীর্ঘ ১০ টি বছর পর সম্ভব হয়েছে একটি মনের মতন বাসা পাওয়া!

দেশে যখন মাথার উপরে নিশ্চিত এক ছাঁদ ছিল, কখনোই ভাবে নি কত বড় আর্শীবাদ এটা, বাবা রাত করে ফেরেন আবার সেই ভোরে বেড়িয়ে যেতেন, কই একবারও তো তেমন করে ভাবে নি কখনো! বাবার জীবনে কি "স্বপ্ন", "আশা", "আকাঙ্খা" বলতে কিছু আছে!! বাবা কি এই শব্দগুলোর অর্থ আদৌও জানতেন! নাকি জেনেও ভুলে যেতে চেয়েছিলেন অরুনাদের দিকে তাকিয়ে?

আশরাফ কখনোও রাত দু'টো তে ফিরত কাজ থেকে, কখনোও বা আবার সেই ভোর ৪ টায় বেড়িয়ে যেত। "ভালো থেকো!" কথাটা বলতে বড্ড মুখে বাজতো! কোনরকম ভাবে বলত, "খাবারটা সময় মত খেয়ে নিও"। আশরাফও কি ভুলে যাচ্ছিল অরুনার বাবার মত, ভালো থাকার অর্থটা কি!! সপ্তাহে তখন যে মানুষ ৭ দিনই কাজ করে যাচ্ছে, তার কাছে তখন ভালো থাকাটাও বিলাসিতা।

অরুনা পানির খালি গ্লাসটিতে মনের অজান্তেই আরেকবার চুমুক দিতে গিয়ে ভাবল, কতটা অপমানই না করেছিল, নিজের বাবা মা কে! ছোট ছোট কতগুলো কথা! অথচ কতটা বিশাক্ত ছিল, ছিল কতটা ধাঁরালো। "কি দিতেই বা পেরেছো তোমারা বাবা-মা হয়ে? পাশের বাড়ির নীলার বাবা-মাকে দেখেছো! সন্তানদের জন্যে কত কিছু করেছে, আর আমি একটু ঘুরতে যাবো তাতেই এতো হিসাব, পিকনিকের জন্যে পয়সা দিতে পারছো না"!! মা তখন বলতে পারতেন না, অরুনার টিউটরের জন্যে পয়সা আলাদা করাটাই তখন কত কষ্টকর ছিল!!

যখন লন্ডন আসবে বলে ঠিক হলো, বাবা-মা চাইছিলেন না অরুনা আসুক এখানে, একমাত্র মেয়ে এতদূর যাবে!! অরুনার শেষ উত্তরে মনে আছে, বাবা-মা দুজনেই কেমন বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন, "আমার জীবন বাবা-মা হয়ে তেমন করে তো গড়ে দিতে পারো নি! যখন নিজে গড়তে যাচ্ছি তখন কেন স্বার্থপরের মতো বাধা দিচ্ছো"। বাবা-মার মুখে কোন উত্তর ছিল না। বাবা আইসিউতে ছিলেন, অরুনার পাসপোর্ট ভিসার জন্যে অফিসে তখন। বাবার মুখটাও দেখা হয়নি শেষবারের মতোন। মা সিড়ি থেকে পরে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পান, আর অরুনার তখন সিটিজেনশিপ এর জন্যে অ্যাপলিকেশন প্রসেসিং চলছে। ভাবছিল, পাসপোর্ট হাতে পেয়েই তো... কিন্ত নাহ্, তা  আর হলো না! মা গত হবার ১ মাস পর দেশের বাড়িতে বসে ভাবছিল, কত কর্কশ, কত ধাঁরালো কথার আঘাতে বিদ্ধ করেছে বাবা-মাকে। দায়িত্ব নাকি তারা পালন করতে পারে নি! সে নিজে কি পারল, একমাত্র মেয়ে হয়ে!! মৃত্যুশয্যায় একজনের মুখেও এক ফোঁটা পানি দেবার সুযোগ পায়নি। সেদিন যে অপমান করে চলে গিয়েছিল, একবারও অরুনার মনে হয়নি পেছনটা ফিরে দেখি, মা কি তাকিয়ে ছিলেন আশা করে? অরুনা একবার পেছন ফিরবে!! কিংবা আবার ঘুরে এসে বলবে,
"যা বলেছি রাগের মাথায়, প্লিজ মনে কিছু নিও না"!!


অতীত প্রায়ই ফিরে ফিরে আসে, আজ তারই একমাত্র মেয়ে রিহানা যখন মুখের উপর কতগুলো ইংলিশ ঝেড়ে বলছিল, কিই বা দিতে পেরেছে তারা! তখন মার মতো অরুনাও বোবা হয়ে গিয়েছিল! "কিই দিতে পেরেছি আমরা"?? অরুনা তখন বলতে পারে নি, "একটা কাপড় সখ করে কেনা হয় নি, বাকি সখ তো দূরের কথা! আমাদের "ইনজয়মেন্ট"এর দিনগুলি জলাঞ্জলি দিয়েছি তোমাদের "ইনজয়মেন্টের" জন্যে! আমি এক হাতে তোমাদের পেলেছি, আর তোমাদের বাবা খেঁটেছে একটা কুকুরের মতোন"।

অরুনা কিছুই বলতে পারে নি। শুধুই বোবা দৃষ্টি মেলে রিহানার চলে যাওয়া দেখছিল, আর ভাবছিল নি:স্বার্থ ভালোবাসার, কি নির্মম পরিহাস!!

অরুনা বসে আছে, আর হয়তবা তার মায়ের মতনই মনের কোন এক ছোট্ট কোণায়, ছোট্ট আশা নিয়ে ভাবছে এই বুঝি রিহানা ফিরে এসে বলবে......"যা বলেছি রাগের মাথায়, প্লিজ মনে কিছু নিও না" 

নি:স্বার্থ ভালোবাসারা শুধু অপেক্ষাই করে যায়!

শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭

মহা ভাবনা..."A philosophy of Astronomy" Summary

আস্সালামু আলাইকুম,


আজ শেয়ার করব .... "মহান ভাবনা" এই বইটি থেকে। এমন কিছু কথা, যা সত্যিই কেমন যেন এক নতুন করে ভাবনাগুলোকে নাড়িয়ে দেয়। আশা করি ভালো লাগবে। 


PART : 1

এ বিশ্বে একমাত্র মানুষই তার স্রষ্টাকে নিয়ে ভাবতে পারে, এর জন্যে প্রথমেই তার জানা উচিৎ তার ভাবনাশক্তি কতটুকু এবং তার ভাবনার "সত্ত্বা" সেই মহাস্রষ্টার পরিচয় কি?

মানুষ ছোট হোক বা বড় হোক, মহাজ্ঞানী হোক বা ক্ষুদ্র জ্ঞানী, সে নিজেকে যা ভাবে বা নিজেকে যতটুকু যোগ্য মনে করে সেকি আসলেই তাই? মানুষের জ্ঞানের দৌঁড় এবং যোগ্যতার সীমা জানতে হলে মহাবিশ্ব নিয়ে যদি একটু ঘাটাঘাটি করি তবে দেখা যাবে, মানুষ নামে আমরা যে এত দম্ভ দেখাই, আমাদের আসলে কোন অস্তিত্বই নেই।

সংক্ষিপ্তভাবে মহাবিশ্বের আলোচনা: পৃথিবীর পরিধি (বেড়) হচেছ ২৫০০০ মাইল। আর ব্যাস হচ্ছে ৮ হাজার মাইল। এবং ওজন ৬ এর পর ২১ টি শূন্য বসালে যা হয় তাই। আর সূর্য হচ্ছে পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ গুন বড়। ওজন পৃথিবীর চেয়ে তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার গুন বেশি। এই সূর্য তার ৯টি গ্রহ ও ৪৪ টি উপগ্রহ নিয়ে সৌরজগত গঠন করেছে। এই সৌরজগত আবার একটি মহাজগতের ভেতর আছে, যার নাম হচ্ছে ছায়াপথ (Milky way) এই ছায়াপথটিকে একটি এমন বিশ্ব বলা হয়, যা কল্পনা করতেও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে। আর এই রকমই মহাবিশ্ব আছে অসংখ্য, যার সংখ্যা বিজ্ঞানীরা এই অব্দি বের করতে পারেনি।

বিজ্ঞনীরা বলে কালো গহবর বলতে মহাশূন্যে একটি ভয়াবহ এবং অন্ধকারতম জায়গা আছে। এর আকর্ষন ক্ষমতা এত বেশী যে, কোন নক্ষত্র তার কাছ দিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা আলোও তার ছোবল থেকে রেহাই পায় না, সেই আলোকেও শুষে নেয়। যদি কোন নক্ষত্র তার আকর্ষন ব্যাসার্ধের মধ্যেও আসে তাহলে কালো গহবরের আকর্ষণে নক্ষত্রটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে এবং বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে কালো গহবর নিমিষেই গ্রাস করে ফেলে।

বিজ্ঞনীরা আরোও একটি আশ্চর্য ঘটনার কথা বলছে যা মহাবিশ্বে মহাসৃষ্টির আদি থেকে অদ্যাবধি চলছে। সেটা হচ্ছে, মহাবিশ্বের কোটি কোটি নীহারিকা বিশ্ব, যার প্রত্যেকটার ভেতর প্রায় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। সৃষ্টির পর থেকেই এর মহাপ্রচন্ড গতিতে এক অজানা লক্ষ্যের দিকে বিরামহীনভাবে ছুটছে। এরা একদিকেই শুধু ছুটছে আর কোন দিন ফিরে আসে নি।

এই মহাবিশ্বের এবং মহাশূন্যকাশের বিশালতার তুলনায় মানুষ কতটুকু!! স্রষ্টা বলেন, "লিল্লাহি মাফিছ ছামাওয়াতি ওমা ফিল আরদ" (আল-কুরআন)-- ("আসমান সমূহে যা কিছু আছে এবং যা কিছু আছে পৃথিবীতে সবই আমার।") 
"ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আ'লীউল আজীম"- (এই মহাসৃষ্টি হেফাজত করতে আমার মোটেও বেগ পেতে হয় না। এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে তিনি উচ্চ, সুমহান এবং সবার উপরে বড় ও সর্বশক্তিমান।)


এখন শুধু আমাদের এই সূর্যকে নিয়েই ভাবি। সূর্য যদি ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরত্ব কমিয়ে ৪ কোটি মাইল হতো তবে, পৃথিবী বলতে কোন অস্তিত্বই থাকত না।
আবার সূর্য যদি তার বর্তমান অবস্থান থেকে একটু অধিক দূরত্বে অবস্থান করত, তবে পৃ্থিবীতে এমন শীতলতা সৃষ্টি হতো যে মানুষ তো দূরের কথা কোন প্রাণীরই অস্তিত্ব কল্পনা করা যেত না। আল্লাহ পাক সূর্যকে মাটির পৃথিবীর জীবনীশক্তির প্রধান শক্তি হিসাবে সৃষ্টি করেছে।

সূর্যের ভেতরে বিপুল পরিমান অনু বিস্ফোরণ হওয়ার কারণে, সহজ কথায় সূর্যের যে ক্ষতি হয়, তার পরিমান প্রতি সেকেন্ডে ৪০ লক্ষ টন অর্থাৎ সূর্যের আলো এবং তাপ (মনে করি একটি জলন্ত চুলো) জ্বালিয়ে রাখতে প্রতি সেকেন্ডে ৪০ লক্ষ টন লাকড়ি সূর্যের ভেতর ঠেলতে হয়। এই ভাবে দিনরাত ২৪ ঘন্টায়, ৩৫ হাজার কোটি টন লাকড়ি সূর্যের মধ্যে দিলেই একমাত্র তার আগুন ঠিক থাকবে, এবং আমাদের সকলের এবং গাছপালার জীবনও বেঁচে থাকবে। মহান স্রষ্টা প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ টন লাকড়ি ঠেলে সূর্যকে জ্বালিয়ে  আমাদের জ্ঞানের অজান্তে অলক্ষ্যভাবেই পৃথিবীর সকল জীবনীশক্তি বাঁচিয়ে রেখেছেন।  এই যে ২৪ ঘন্টায়, সেকেন্ডে সেকেন্ডে এত কোটি কোটি টন লাকড়ি ঠেলছেন, কখনো কি প্রতিদান চেয়েছেন?? আমরা "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুল্লিল্লাহ", আল্লাহু আকবার" কতবার বলি??

এই মহাবিশ্বের এবং মহাশূন্যকাশের বিশালতায় মানুষ কতটুকু? এই মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ গুন সূর্যের কোন অস্তিত্বই নাই। সেই সূর্যের কাছে পৃথিবী কতটুকু? সেই পৃথিবীর আবার কতটি মহাদেশ! সেই মহাদেশের মধ্যে আবার কতগুলো দেশ চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত। সেই ভারতবর্ষেরই আরো একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের কতগুলো বিভাগ, সেই বিভাগগুলোর মধ্যে আমরা আছি, তাও কোন একটি ছোট ছোট শহরের, ছোট কোন অংশের, কোন একটি ঘরের ভেতর, কোন একটি কামরা তে,,,, এই ক্ষুদ্র আমরা "মানুষ"!! আর সেই মহান সৃষ্টিকর্তা বলেন, আমি তোমার ঘাড়ের শিরার চেয়েও অতি নিকটে আছি!!

আল্লাহপাক বলেন, "নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি আর দিবারাত্রির বৈপরিত্যের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্যে রয়েছে অকাট্য নিদর্শনসমূহ।"- আল-কুরআন।

মানুষের ভেতর যে অাত্মা বা রুহ আছে তাকে জাগাতে হয়, এই রুহের অসীম শক্তি। একে জাগাতে পারলে তার শ্রবণ, দর্শন, অনুধাবন শক্তির উন্নতি হয়, তখন সে সেই মহান স্রষ্টা আল্লাহু রাব্বুল আলামিন কে উপলব্ধি করতে পারে এবং আল্লাহ বলে যে একজন মহান স্রষ্টা আছেন, তা অর্ন্তদৃষ্টি দ্বারা বিশ্বাস করতে পারে....আল্লাহ পাক্ বলেন, "ফাজকুরুনী আজকুরুকুম"- অর্থাৎ "তুমি আমাকে ডাক, আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব।"

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭

"Disciplining the Soul" by Ibn Al- Jawzi

"হৃদয়" or "SOUL" বড্ড অবাধ্য, একে ডিসিপ্লিনে আনা কষ্টদায়ক হলেও কিন্তু অসাধ্য নয়। শুরু করি সেই কাজ  "DISCIPLINING THE SOUL" by Ibn Al-Jawzi.
জানতে থাকি "SOUL" এর কি কি রোগ আছে আর কিভাবেই বা বাধ্যতায় আনা যায়।

বইটিতে মোট ৩০ টি অধ্যায় আছে। দুটি পার্টে সামারিটা দেব।
So enjoy your reading...

Lets begin...

PART 1:
"Every breath we take is taking us closer to death. The time we spend in this world is short, the time we are held in our graves is long, and the punishment for following our lowly desires is calamitous."- IBN JAWZI

Full name: Al Hafiz Abu'l Faraj Abdul-Rahman Ibn Jawzi
Born: 509 or 510 A.H.
Death: 12 th Ramadan 597 A.H. buried next to the grave of Imam Ahmed ibn Hanbal.


Chapter 1: (The virtue of the mind)
যে কোন বিষয়ের মাহাত্ম্য বোঝা যায় তার "ফল" কে বিচার করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতর হচ্ছে সেই "মন" যে তার রব, সৃষ্টিকর্তা কে চেনে।  Because of the "Mind", human beings have excellence over animals. And it qualifies human being for the speech of Allah.

Chapter 2: (Dispraise of desires)
এখানে বুঝতে হবে আমাদের ভিতরে যেমন এক "প্রজ্ঞাময়" সত্তা আছে ঠিক তেমনি আছে এক "অজ্ঞ" সত্তা। মনের ইচ্ছগুলোর উপর যদি কোন কন্ট্রোলই না থাকে তবে এক সময় শুধু এর কমান্ড অনুযায়ী চলতে হবে। যা এক পর্যায়ে  পশুত্বকে জাগিয়ে দেয়, সে থেকে জন্ম নেয় যে কোন ধরনেরই এ্যাডিকশন। হতে পারে সেটা ড্রাগস, এ্যালকোহল কিংবা পর্নোগ্রাফি। আর এর জন্যেই ভাবতে হবে এই বিষয়গুলোকে নিয়ে। এর প্রভাবগুলোকে নিয়ে, এতে করে পরবর্তীতে মনের ইচ্ছাগুলোকে নিজের কন্ট্রোলকে রাখাটা সহজ হয়।

Chapter 3: (The difference between perspective of Mind and the perspective of Desire)
Desires calls to attaining pleasure without taking into consideration its consequences. পশুরা কাজের পরিনতি কি হতে পারে তা ভাবতে যায় না, কিন্ত এক বুদ্ধিমান, জ্ঞানী, সম্মানিত ব্যক্তি কখনোই তার স্ট্যাটাসকে অসম্মানের পর্যায়ে নেবে না। খারাপ ডিজায়ের জাগলেই আগে কনসাল্ট করতে হবে মাইন্ড এর সাথে। Its better to reflect on the state after his/her satisfaction has passed. And should compare between the satisfaction and the sin for that. কি পাবার বদলে কি হারালাম!
Chapter 4: (Averting Passionate love)
লেখক বোঝাতে চাইছে খারাপ বাসনা, যা শরীর, মন, ধর্ম সবকিছুকেই ধ্বংস করে দেয়। আর এ ক্ষেত্রে নিজেকে সেফ করতে হলে চোখকে সংযত করতে হবে। দৃষ্টি নিচে। যা খারাপ তার দিকে বার বার দৃষ্টি দিলে তা লোভ আর বাসনাগুলোকে আরও শক্ত করে তোলে। ভালোবাসা যদি কারোর সাথে হয়েই যায় তবে সেক্ষেত্রে তাকে বৈধতার রুপ দিতে হবে, ডাইরেক্ট বিয়ে। 

Chapter 5: (Averting Gluttony):
সহজ কথায় অতিভোজন কমানো। One must know, wise must eat to survive, on the other hand the ignorant would rather live to eat. লেখক এখানে "সারাহ্" বলতে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া, ব্যয় করাও বুঝিয়েছেন। ভাবতে হবে উমর বিন আল-খাত্তাব (রা:) এর কথা, যিনি মুসলিম উম্মাহর একজন দি মোস্ট শ্রেষ্ঠ খলিফা ছিলেন অথচ তাঁর কাপড়ে ছিল ১২ টি সেলাইয়ে দাগ!!


Chapter 6: (Refusing to take a position of Authority in this World)
Our inner self loves superiority over its kind. Leadership is needed but one must know there are many risks in it too. if any injustice happens then one must answer for that in the day of judgement. One strong hadith, Allah's messenger (SM.) said "Do not be the leader of two and do not be in charge of the money of an orphan" - Reported by Muslim.


Chapter 7: (Averting Stinginess)
মিতব্যয়ীতা আর কিপটেমি কিন্ত এক নয়। একজন তার ভবিষ্যত কিংবা সন্তানদের জন্যে টাকা জমাতেই পারে বরং স্টিনজি তারাই যারা তাদের সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলক অংশটুকু (যাকাত) দেয় না। Prophet (SM.) said "Two traits are not combined in a believer, Stinginess and Bad morals"-Tirmidhi
Cure for stinginess is to contemplate and realize that poor people are also one's family! We should give money in a good causes, before it is taken away from us.

Chapter 8: (Prohibition of Squandering)
It is one of the thing that our Desire commands and mind prohibits. সহজ ভাষায় টাকা উড়ানো বলতে যা বোঝায়। ঝোকের বশে, ইচ্ছের তাড়নায় অতিরিক্ত অর্থ উড়িয়ে অনেকেই মাস শেষে প্রচন্ড কষ্টের মাঝে পরে। এর একটাই চিকিৎসা.. পরিনাম চিন্তা করা আর ভবিষ্যত কোন দূর্ঘটনা ঘটবার কথা মাথায় রাখা।

Chapter 9: (Elucidation on the Amount of Earnings and Expenditure)
The earning of a wise person should be more than what he actually needs. In general, Expenditure should be less than earning. So that one can put aside some wealth for any misfortune that might occur.

Chapter 10: (Dispraise of Lying)
মানুষের মাঝে অন্যের এ্যাটেনশন পাবার এক তীব্র আকাঙ্খা থাকে। যার জন্যে ভুল-ভাল যাই হোক না কেন, মিথ্যের আড়ালে নিজেকে করে অতিরঞ্জিত। আর যারা প্রতিনিয়ত এ কাজ করে যায় একদিন না একদিন তাদের রুপ দিব্যলোকে আসবেই। চরম লাঞ্ছনা আর অপমান হয় তার ফল।
নবীজি বলেন, "একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মিথ্যে বলে যতক্ষণ পর্যন্ত তার নাম আল্লাহর খাতায় মিথ্যেবাদী লেখা হয়।" -মুসলিম শরীফ

Chapter 11: (Averting Envy)
বিদ্বেষ এক ভয়ংকর রোগ। আর এই রোগের কারন ইমাম বলছেন, নিজের সবার থেকে আলাদা, অসাধারণ হবার ইচ্ছে এবং বর্তমান সাধারণ অবস্থার জন্যে ভেতর থেকে এক তীব্র ক্ষোভ। অন্যের ভালো কিছু দেখলে ভেতর থেকে এক অসহ্য যন্ত্রণার আগুনে জ্বলতে থাকা আর ভেতর থেকে এই কামনা করা যাতে সেই মানুষের কোন ক্ষতি হয় কিংবা তার সেই বরকত যেন নষ্ট হয়ে যায়। এই বিদ্বেষ থেকে শুরু হয়, ইনসোমেনিয়া, কনটিনিউয়াস মুড সুয়িং আর ডিপ্রেশেন। আর এই বিদ্বেষ শুধু পার্থিব চাহিদার ক্ষেত্রেই হয়। কেউ কখনোও কোন নামাযদার ব্যাক্তির ইবাদত দেখে, রোযাদার ব্যাক্তির রোযা করা দেখে করে না!!

এর চিকিৎসা নবীজিই বলে গিয়েছেন... "জান্নাতে তোমরা ততক্ষণ প্রবেশ করতে পারবেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমার ঈমান আনো, আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনতে পারবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা একে অন্যেকে ভালবাসো। আর আমি কি বলবনা সেই কাজের কথা, যা করলে তোমরা ভালোবাসতে পারবে? তোমরা "সালাম" এর প্রচলন কর।" - তিরমিযী শরীফ

Chapter 12: (Averting Spitefulness)
কারোর কোন কষ্টদায়ক, তিক্ত কথাগুলোকে মনে রাখাই হচ্ছে স্পাইটফুলনেস। আর এটাই করতে হবে পরিত্যাগ। কারোর তিক্ত কথা বা আচরন মনের ভেতর দাগ কেটে রাখলে তা নিজেরই ক্ষতি করে। হৃদয়কে পরিস্কার করতে এই কালিমাগুলোকে আগে পরিস্কার করা দরকার।

এর উপশম হচ্ছে "ক্ষমা" করে দেয়া। এই সময় মনে করতে হবে, "ক্ষমা" করলে কত বড় সওয়াব আশা করা যায়, আর আল্লাহর কাছে এর জন্যে বার বার শুকরিয়া আদায় করা উনি "ক্ষমা" করবার সুযোগ দিয়েছেন, "ক্ষমা" পাবার জায়গায় রাখেন নি। সবসময় মনে রাখা, যা হয় তা আল্লাহ পাকের ইশারা আর ইচ্ছাতেই তো হয়!! So, Forgive and Forget!


সাহর- শাহরিয়ার খান শিহাব

#পাঠপ্রতিক্রিয়া: "বড় হুজুর বলেন, 'শয়তান কাউকে নিজের দলে আসতে বাধ্য করে না। করতে পারেও না, সেই ক্ষমতাও তার নাই। সে শুধু আহবান করে, ফ...