
সমালোচনাকারী বা ক্রিটিকস হবার ধৃষ্টতা দেখাইনা, হেতু নিজের সীমাবদ্ধতা! নিতান্তই "সাধারণ" এক সাহিত্যের রস আস্বাদনকারী হিসাবে পরিচিত হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সাধারণের চোখে সাহিত্যরথীদের সৃষ্টির দর্পনস্বরুপ এই--"সাহিত্যানুশীলন".... আমার সমাশক্তির আখড়া।
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সাহর- শাহরিয়ার খান শিহাব

শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৪
লোভ- জে. আলী
কিছু গল্পে মাটির গন্ধ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় গ্রাম বাংলার মানুষের কষ্ট মাখা হাসি-কান্না, বেদনায় আশ্রিত গাঁথা। কিছু লেখায় গ্রাম্য জীবন যেমন সরলতা ও আগ্রাসন এর উলঙ্গ বীজ নিয়ে জীবন্ত, শহুরে কোলাহল ঠিক তেমনই প্রতাপে তার কলুষিত, মারপ্যাঁচে সজীব। এই লেখা সবার হাতে, সবার কলমে ঠিকঠাক ফুটেও উঠে না।
লেখকের লেখায় এই স্বাদ ঠিক সব সময়ই পাওয়া যায়। এর ব্যাখ্যা হতে পারে, লেখকের খুব কাছ থেকে দুটি জীবনের বাস্তবতারই অভিজ্ঞতা অর্জন, পর্যবেক্ষণের সজাগ চোখ আর জ্ঞানের তৃঞ্চা থাকা।
ব্যক্তিগতভাবে খুব কাছের জন বলেই উনার লেখার সাথে পরিচিত আগের থেকেই। লেখা অতিসরলীকরন করার অভ্যাস উনার নেই অথচ প্রাণবন্ত থাকে একদম ঠিকঠাক। সাধারণের পরিচিত ভাষা অথচ গম্ভীর, তাৎপর্যপূর্ণ। পড়ার পর ভাবতে হয়।
"লোভ" সেইরম গুটি কয়েক ছোট গল্পের সংকলন।
যেখানে "লোভ" সেই সুদূর জমিদারদের ইতিহাস শোনায় তো, "বাশারের ভুল" ও "সরীসৃপ" ঘুরিয়ে নিয়ে আসে শহুরে দালানকোঠার ভীরে হারিয়ে যাওয়া মানবিকতার অভিশাপময় জীবন থেকে। দীর্ঘশ্বাসের ভিড়ে বাতাস যেখানে খুব ভারী।
"বিলাপ", "পরিমলের মাছ", "ময়দুল ও একটি সাপ" গ্রামীণ জীবনের করুন সুরে বাঁধা এমন কিছু দৃশ্যপট দেখায় যেখানে সরলতার দহন হয় প্রতিনিয়ত। খেটে খাওয়া মানুষেরা আসলে বঞ্চনার গ্লানি বয়ে বেড়ায় সব ক্ষেত্রেই, সব যুগেই। হোক সেটা শহর কী গ্রাম, হোক তা ইতিহাস কী বর্তমান!
"রায়" দেখায় পাপের ছায়া কী ভয়ংকর ভাবেই না আমাদের ঘিরে রাখে। আমি বিশ্বাস করি, যে পাপী সে প্রতিনিয়তই আসলে ভেতরে এক অজানা আশংকায় থাকে কম্পিত। আমরা তা দেখি না কিন্তু তার অন্তর্দাহ চলতেই থাকে।
আর "প্রতিমা" এক অমীমাংসিত প্রেমের গল্প। যেখানে শুধুই হাহাকারে উপসংহার ঘটে।
লেখকের লেখা ভালো লাগার অন্যতম কারণ এতে নিছক শুধু গল্পই থাকে না। বরং থাকে জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতায় মোড়া নীতি আর ইতিহাসের উপস্থিতি। অজানা কিছু জানা যায়, শেখা যায়। লেখকের এক ব্যগ্রতার সাথে আমি পরিচিত খুব কাছ থেকেই, উনি জানাতে পচ্ছন্দ করেন, উনি শেখাতে চান নিজের যতটুকুই অর্জিত জ্ঞান আছে তা অকৃপণভাবে বিলিয়ে দিতে চান উনার শিক্ষার্থী, শিষ্যদের মাঝে। একসাথে চলতে চান জ্ঞানের পথ।
সেই পথের সঙ্গী আমিও হতে চাই প্রিয় শিক্ষক।
আজও মনে আছে ক্লাসের সেই কথা, আমার বই পড়ার অভ্যাসের কথা শুনে উচ্ছাস্বিত কন্ঠে বলেছিলেন,.... "যে বই পড়ে, আমার কাছে তার সাত খুন মাফ" । কী ভিষন আপন হয়ে গিয়েছিলেন স্যার ঠিক সেই দিন থেকেই, মনে হয়েছিল, যাক্, জীবনের এই বাঁকে এক পথপদর্শক পেলাম!
সুখপাঠ্য।
******************************************
লেখক: জে. আলী
প্রকাশক: কলী প্রকাশনী
পৃষ্ঠা: ১১২
রেটিং: ৩/৫
বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪
তারাফুল - আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব
ভালবাসার পদ্মমূলে শুধুই সৃষ্টিকর্তার আসনকে অঙ্কিত করার প্রয়াস প্রশংসনীয়, সাথে উৎসাহমূলক বহু প্রেমিক সত্ত্বাদের জন্যে। নিজেরাই প্রশ্ন করবে, "নিখাদ ভালবাসা প্রকৃতপক্ষে কার জন্যে হওয়া উচিত।"
"কুমড়ো ফুলের ঘর" বুকের কোথায় যেন বেদনার এক সুর জাগিয়ে দিয়েছিল। নিজের ফুপুর কথা মনে পরেই হয়তো।
"চলো, ফিরে যাই" বিশেষ করে অনুপ্রানিত করেছে। সত্যিই শৈশবের সারল্যকে ধারন করে রাখলে, বর্তমানের জটিল জীবনধারার মারপ্যাঁচকে খুব সহজেই বাগে আনা যায়। আমার নিজের এক স্মৃতি প্রায়ই কাঁদায় আমায় যখন ভাবি তেমন নিখাদ বিশ্বাস, ইয়াকিন, ঈমান কই হারালো আমার!
রমজানের সময় ছিল, আর আমি অনেক ছোট। মনে হয় ২/৩ তে পড়ি। আব্বাকে প্রতিদিন বলতাম তারাবিহ থেকে ফেরার পথে যেন আমার জন্যে হাজমোলা নিয়ে আসে। আব্বা প্রতিদিনই ভুলে যায়। ইফতারকে সামনে রেখে দুআ করলে তা কবুল হয় এটা আম্মুর কাছ থেকে জানার পর সেই বিশ্বাসে ইফতারিতে সেদিন আল্লাহর কাছে বলি, "আল্লাহ আজকে আব্বা যেন আমার জন্যে হাজমোলা নিয়ে আসে"। সেদিন আর আব্বাকে মনে করিয়েও দেই নি। সুবহানাল্লাহ, আব্বা সেদিন নিয়ে আসে, আমি না বলা সত্ত্বেও। আমার সে কি আনন্দ, হাজমোলা পেয়ে যতটা নাহ, দোয়া এইভাবে কবুল হয়ে এটা ভেবেই। তারপর কত জল গড়ালো! নিজের বিশ্বাসের আয়নায় জাগতিক মোহে ধুলোর আস্তরণ পরতে রইল।
আজও কষ্ট হয়, আল্লাহর কাছে চাই আমার শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া ইয়াকিন, বিশ্বাস আল্লাহপাক আবার জীবন্ত করে দিক, আমীন।
সুখপাঠ্য।
*******************************************
বই: তারাফুল
লেখক: আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠা:১৪৯
সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩
নূর- লতিফুল ইসলাম শিবলী
নূর- লতিফুল ইসলাম শিবলী
কাহিনীতে উঠে আসে পলাশী যুদ্ধের পরবর্তী তিন দশকের ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, এক দীপ্তমূর্তি "ফকির মজনু শাহ", এক মহান সুফি সাধক। তাঁর সুদৃঢ় ইমানী জজবা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমগ্র হিন্দু-মুসলিম অধিকার বঞ্চিত মূলত কৃষক মজলুমদের সংগঠিত করে এক চাদরের নিচে। ঐক্যবদ্ধ হয় হিন্দু সন্ন্যাসী ও ফকির দরবেশ।
- "দানব দেখতে চোখ লাগে, মানুষ দেখতে লাগে অন্তর"।
অবশ্য পাঠ্য।
**************
বই: নূর
লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী Latiful Islam Shibli
প্রকাশক: নালন্দা
Goodreads rating: 4/5
***************
মুক্ত বাতাসের খোঁজে
মূল- লস্ট মডেস্টি
****************
বই: মুক্ত বাতাসের খোঁজে
লস্ট মডেস্টি Lost Modesty
প্রকাশনা: ইলমহাউস পাবলিকেশন
Goodreads rating: 5/5
পৃষ্ঠা : ২২৭
*****************
বিখন্ডিত- রবিন জামান খান
কিন্তু বেশি কথা বলা হয়ত একটু উনার স্টাইল, যা না আ্যড করলেও হয়। মনে হয় পরিসর ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে বাড়ানো হচ্ছে। "ব্ল্যাকবুদ্ধা" পড়ে তাই মনে হয়েছিল।
পরিশেষে,
উত্তেজনাপূর্ন পাঠ্য, সুখপাঠ্য।
*************
বই: বিখন্ডিত
লেখক: রবিন জামান খান
প্রকাশনা: নালন্দা
পৃষ্ঠা :৩৬৮
Goodreads rating: 4/5
শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩
আউরা- কার্লোস ফুয়েন্তেস
--------------
কার্লোস ফুয়েন্তেস
জন্ম: ১১ই নভেম্বর, ১৯২৮ (পানামা সিটি, পানামা)
মৃত্যু: ১৫ই মে, ২০১২ (মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো)
--------------
"আউরা" প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬১ সালে, এবং সেই থেকেই একটি স্থায়ী অসাধারণ অবদান হিসাবে মননিত।
"আউরা" উপন্যাসটি ফেলিপে মনতেরো আর ১০৯ বছরের বৃদ্ধা কনসুয়েলোর, যিনি তার স্বামীর স্মৃতিকাহিনী সম্পাদনার জন্যে কাউকে খুঁজছিলেন। কিন্তু শর্ত জুড়েছিলেন, বৃদ্ধার বাড়িতে থেকেই কাজ করে যেতে হবে।
.......
"...তুমি তাই আর ঘড়ির দিকে তাকাও না। এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসটা শুধু মানুষের অহমিকা প্রকাশ করার জন্যে ক্লান্তিহীনভাবে সময় মেপে যাচ্ছে।..... প্রকৃত সময় তো আসলে মরণশীল, যার কাজ হলো ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলা, একে পরিমাপ করা কোনো ঘড়ির পক্ষেই সম্ভব নয়। এক জীবন, এক শতাব্দী, পঞ্চাশ বছর: অর্থাৎ ওই বানোয়াট মাপকাঠি দিয়ে তুমি আসল সময়কে কখনো কল্পনাও করতে পারবেনা। সময় নামে ঐ অশীরীরী ধূলিকণা তুমি হাত দিয়ে কোনো দিন ধরেও রাখতে পারবে না।"
-".. তুমি তোমার অন্য অর্ধেককে খুঁজছো, যে দ্বিতীয় সত্তার জন্ম হয়েছে গত রাতের ওই নিস্ফলা কল্পনার গর্ভে।"
সুখ পাঠ্য।
বই: আউরা (Aura)
লেখক: কার্লোস ফুয়েন্তেস
অনুবাদক: আলীম আজিজ
প্রকাশক: প্রথমা
****************
#বইপরিচিতি #bookreview #bookworm #aura #CarlosFuentes #latinliterature
মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩
অন্তিম- লতিফুল ইসলাম শিবলী
"প্রকাশ্য যুদ্ধের আগে এখন এই গোপন যুদ্ধটাই-
The Beginning of the End."..........
-------------
আমি রীতিমতোন বলা চলে গুণমুগ্ধ পাঠক হয়ে পড়েছি লেখকের। "দারবিশ" ছিল উনাকে লেখক হিসেবে জানার প্রথম ধাপ, "আসমান" দ্বিতীয়।
AI, মিডিয়ার জগতে ম্যানুপুলেটেড চিন্তাধারা নিয়ে আমরা এতটাই অন্ধ যে ভাল-মন্দের বিচারের বোধ কখন হারিয়েছে সেটাও অজ্ঞাত।
"The fiction based on fact"
টপিকটাই এমন যে আমাদের গতানুগতিক চিন্তার, চলনের বাইরে মনে হয় বিধায়, আমরা এর একটা এলিট নাম দেই, "Conspiracy theory"! আসলেই কী তাই!!
লেখার গাথুনি, গতি অসাধারণ। খুব সেনসিটিভ অথচ অনেক সহজ, তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। উনি এমন সব সেনসিটিভ বিষয়গুলোতে আলোকপাত করছেন, যেখানে অনেকেই বর্তমান সো কলড "প্রগতিশীল" সমাজে জাত যাবার ভয়ে ধারের কাছেও ঘেঁষে না।
"ইমাম ইউসুফ মাহমুদের" মতন হবার স্বাদ জাগে। কেননা কোথায় যেন নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাই।
বইয়ের খানিক অংশ...
"ইমাম স্মিত হেসে বললেন-
নবী (সা:) এর অবমাননা হলে মুসলিমরা জীবন দেয়। কিন্তু নবীর কথা বিশ্বাস করে না। মুসলিমরা পারমানবিক যুদ্ধ বোঝে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বোঝে। কিন্তু নবী (সা:) এর বলা "মালহামা" বোঝে না। মুসলিমরা অবৈধ নবীন রাস্ট্র ইজরাইলের শক্তিমত্তা, বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব এবং গুরুত্ব ঠিকই বোঝে। কিন্তু বোঝেনা সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে নবী (সা:) এর ভবিষ্যৎবাণীর মর্ম -
"কেয়ামতের আগে মদিনার গুরুত্ব কমে যাবে। জেরুজালেমের গুরুত্ব বেড়ে যাবে"।
- (আবু-দাউদ)
আমাদের জানা আর বিশ্বাসের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। আমরা জানি কিন্তু বিশ্বাস করি না, আমাদের জীবনযাত্রা বিশ্বাসের অনুগামী নয়। কিন্তু অন্যরা যা বিশ্বাস করে সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করে বলেই লিডারশীপ তাদের হাতে।"................
অবশ্য পাঠ্য।
#সাহিত্যানুশীলন
*************
লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী
প্রকাশক: নালন্দা
Goodreads rating: 4/5
************
#বইপরিচিতি #bookreview #bookworm #অন্তিম #পাঠপ্রতিক্রিয়া #বাংলাসাহিত্য
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩
অল্প কিছু আলো-দেবেশ রায়
অল্প কিছু আলো-দেবেশ রায়
"আমাদের ভালো থাকা নিয়ে বলা কথা"
------------
দেশভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে কিংবদন্তিতূল্য একজন, পশ্চিম বঙ্গের দেবেশ রায়।
এই প্রবন্ধ গ্রন্থে দেবেশ রায় কথা পেড়েছেন অনেক বিষয়েই। আমাদের ভালো থাকা নিয়ে, কখনওবা খুব মশকরার ছলে 'আমরা যে আসলে ভালো নেই' বা পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চে ভালো থাকার অভিনয় সং সেজে করে যাই, তারই চিত্রায়ণ করেছেন।
৬০ এর দশকে, "কী বলবো" আর "কীভাবে বলবো" নিয়ে এক তর্ক উঠে। দেবেশ রায়, "কীভাবে বলবো" এই শর্ত মাথায় নিয়েই হয়ত স্টাইলে এতো ভিন্নতা নিয়ে খেলেছেন। শব্দ, বাক্যগঠনে ভাষাকে যে ভারে ভারী করেছেন, আমার কতক জায়গায় দু'তিন বার পড়তে হয়েছে এর গুরার্থ উদ্ধার করতে।
তারই সমসাময়িক এই বাংলার কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাই বলেছেন....
"ভাবনার চিত্রণ, অনুভবের চিত্রণ, উপলব্ধির চিত্রণ, বোধের চিত্রণ! এত দায় কি ভাষা নিতে পারবে? ভাষাকে দিয়েই তিনি এই অসাধ্য সাধন করিয়ে নেবার চেষ্টার করেন।.....
.....লেখকজীবনে দেবেশ যতই এগোচ্ছেন ততই তাঁর লেখা ঘোর জটিল হয়ে উঠছে। সরল বাক্যও তাঁর সহজতার সীমানা পার হয়ে প্রায় অবোধ্য একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো মনে হয় দেবেশ রায়ের একে একটি বাক্য যা ধরতে পারে, তার অতিরিক্ত ভার নিয়ে অনেক সময় টলমল করতে থাকে। আমার নিজের ধারণা, এটাকেই হয়তো আয়েশি পাঠক ভারাক্লিষ্টতা বলে মনে করে।"
"সামান্য অমান্যতা"য় তার হাসান ভাইয়ের উদ্দেশ্যে চিঠিও ছিল। "নামায আমার আদায় হইল না" এ ব্যক্ত ছিল "সেলিম আল দীন"কে হারাবার বেদনা।
"আধুনিকতা, আমাদের আধুনিকতা ও অন্য আধুনিকতা" প্রবন্ধে পোষ্টমর্ডানিজমকে নিয়ে ছিল প্রশ্ন।
... "আধুনিকতার পরের যে নতুন আধুনিকতার কথা আমি ভাবছি- তা কোন খোঁড়া তত্ত্ব নয়, তা কেন্দ্রিকতাকে অস্বীকার করা এক পরিধিকে সত্য করে তোলার সক্রিয়তা। কেন্দ্রহীন পরিধি- এমন কল্পনার মধ্যে স্ববিরোধীতা আছে। সেই স্ববিরোধী দ্বন্দ্বকেই আমি খুঁজছি। আমাদের এই এখনকার, এই বর্তমানের দ্বান্দ্বিকতা।"
সুখ পাঠ্য।
#সাহিত্যানুশীলন
**************
বই: অল্প কিছু আলো
লেখক: দেবেশ রায়
প্রকাশনা: অভিযান পাবলিশার্স
**************
বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩
নরকে এক ঋতু- র্যাঁবো
-অনুবাদ: লোকনাথ ভট্টাচার্য
৩৭ বছর জীবনে কবিত্ত্বের সময় মাত্র পাঁচ বছর। আর তাতেই দাপটে প্রশ্ন করে গিয়েছেন, প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন গভীর জীবনবোধের সব প্রহেলিকার।
উনিশ শতকের কবিদের মধ্যে যারা এই একবিংশতেও সাড়া জাগান দোর্দন্ডপ্রতাপে, তাদেরই একজন এই ফরাসী কবি "জাঁ আর্তুর র্যাঁবো"। "নরকে এক ঋতু" একমাত্র কবিতার বই, সাতটি অধ্যায় নিয়ে।
সাহিত্যের এই বিচিত্র শাখা "কবিতা"য় আমার অক্ষরজ্ঞান খুবই নগন্য। শশুড়বাবার পাঠাগারে ঘুরপাকের ফলেই হয়তবা আগ্রহ জমতে শুরু হচ্ছে।
র্যাঁবোর স্বল্প পরিসরের জীবনে মাত্র ১৪ বছরে কবিতার শুরু যার সমাপ্তি ২০ গিয়ে। আমার আকর্ষনের হেতু হয়তবা এটাই, যে সেই অল্প বয়সেই কলমের ধারে উঠে এসেছে বিদ্রোহ, বিপ্লব, সামাজিক সংস্কৃতি, আচারের উপর ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন, অথচ লেখনীতে পরিপক্কতা। কোন উদ্ধত নাস্তিকের প্রশ্ন নয় বরং এ যেন নিজেকেই বার বার দহনে জালিয়ে ফিনিক্স পাখি হবার প্রয়াস।
"পবিত্রতা!
জাগরণের এই ক্ষণটিই আমাকে দেখালো সেই পবিত্রতার আলো- আত্মাই মানুষকে টানে ঈশ্বরের পথে!..
কী মর্মভেদী দুর্ভাগ্য!"
অবশেষে....
"এই মনোহর মজুরগণের তরে,
ব্যাবিলনিয়ার অধীশ্বরের দাস হয়ে থাকে যারা।
ভেনাস, তোমার অনুরাগীদের ত্যাগ করো ক্ষণতরে।
যাদের হৃদয় চেনে নি কিছুই মুকুট ছাড়া।"
#সাহিত্যানুশীলন
*****************
লেখক: র্যাঁবো (Jha Artur Rabo)
অনুবাদক: লোকনাথ ভট্টাচার্যপ্রকাশক: সঞ্জয় সামন্ত, এবং মুশায়েরা (কলকাতা)
****************
বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩
আল্লামা ইকবালের মেটাফিজিকস
ইকবালের আধ্যাত্মবাদ
প্রতীচ্য ও প্রাচ্য, প্রাচীন ও সাম্প্রতিক, অতীন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়বাদী জ্ঞানের সম্মিলনস্থল হিসেবে আল্লামা ইকবালকে পাঠ করার যে প্রয়োজনীয়তা আমাদের জ্ঞানতত্ত্বে তীব্র হচ্ছে, এ বই সে প্রয়োজনীয়তার প্রতি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
লেখক ইকবালের দর্শনের অধিবিদ্যা নিয়ে যে আলোচনা এবং উপস্থাপনা তাই নিয়েই ঘেঁটেছেন, যা মূলত তার "Metaphysics in Persia" & "Reconstruction of religious thoughts in Islam" বইকেই ভিত্তি বানিয়ে উপস্থাপন করা।
ইকবাল বার্গস, নিটশে, ম্যাকটাগার্টকে অধ্যয়ন করে মূলত আত্মার প্রকৃতি ও ইচ্ছাশক্তি মূল ধরে অনুপ্রাণিত হয়েছে চিন্তার ক্ষেত্রে কিন্তু পরিপূর্ণ তৃপ্ত হতে পারেন নি। ইকবাল স্রষ্টার জ্ঞান, আত্মার জ্ঞান ও অমরত্বের জ্ঞানকে দৃঢ়তার সাথে সামনে নিয়ে এসেছেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শনের সাথে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে।
ব্যক্তিগত মতামত, অনুবাদের সময় স্বাভাবিকভাবেই মূল কিছুটা ব্যহত হয়, তা মাথায় রেখেই হয়ত শব্দচয়ন, উপস্থাপনে আরও কিছুটা পারদর্শিতা দেখানো যেত। যেহেতু লেখক এতে আল্লামা ইকবাল ও অন্যান্য দার্শনিকদের তুলনামূলক আলোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, এবং বইয়ের শেষে পাদটীকায় ইকবাল ও অন্যান্য বইয়ের তালিকা সংযুক্ত করে দিয়েছেন, আশা করা যায় অনুসন্ধিৎসু পাঠক সেখান থেকে গভীর জ্ঞান আহরনের রসদ পাবে।
আমার স্বল্প জ্ঞানের দ্বারা এই কথার মর্মকে পুরোপুরি বিশ্বাস করি.....
"চিন্তার দ্বারা অর্জিত সকল জ্ঞানই আপেক্ষিক। আবার এটা কেবল আভাসও বটে। কিন্তু স্বজ্ঞার দ্বারা হৃদয়ে উদিত জ্ঞান দিয়ে আমরা পরম পর্যন্ত পৌঁছতে পারি।"
#সাহিত্যানুশীলন
বই: আল্লামা ইকবালের মেটাফিজিকস
লেখক: ড. ইশরাত হাসান ইনভার
অনুবাদ: মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি
Goodreads: 4/5
***********************************
মসলার যুদ্ধ....
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
"মসলার যুদ্ধ", সত্যেন সেন এর লেখা ক্ষুদ্র পরিসরের এক ইতিহাস, যার হাত ধরে উপনিবেশবাদ, ক্রুসেডের বিষ, দেশীয় শক্তি, স্বাধীনতা সংগ্রাম এর বীজ বোঝা যায়।
কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরলাম....
"আন্তর্জাতিক আইন? সে তো ইউরোপের জাতিগুলোর নিজেদের ভেতরকার ব্যাপার। লন্ডন বা প্যারিসে যা বর্বরতা বলে আখ্যা পায়, পিকিং এর বুকে তাকেই সভ্যজনোচিত আচার বলে ব্যাখা করা যেতে পারে।"
--------------
"গোয়া দখল করবার পর অ্যালবুকার্ক পর্তুগাল-রাজ ডোম ম্যানুয়েলের কাছে এ সম্পর্কে যে সংবাদ পাঠিয়েছিলেন, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছিলেন...
'গোয়ায় যে সমস্ত আরবীয় ছিল, আমরা তাদের সবাইকে হত্যা করেছি, আমাদের হাতে কেউ রেহাই পায়নি। আমরা তাদের মসজিদের মধ্যে আটকে রেখে, শেষে সেই মসজিদ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছি।'............"
--------------
"মানবতাবিরোধী অতি জঘন্য কাজের সাথে যদি কোনোমতে ধর্মকে সংশ্লিষ্ট করে রাখা যায়, তবে তার সব দোষ কেটে যায়। শুধু দোষ কেটে যাওয়াই নয়, সময় সময় তা অতি মহৎ ও পবিত্র কাজ বলেও কীর্তিত হয়ে থাকে।"
---------------
"এই সমাজের এই তো রীতি। যারা উৎপাদন করে, অভার ও অনশন তাদেরই প্রাপ্য। আর তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে দমন-নীতির হিংস্র আক্রমণ তাদের উপরেই নেমে আসে। যুগ যুগ ধরে এই রীতিই চলে আসছে। আজও কি চলছে না?"
----------------
"এই মসলার যুদ্ধ রক্তাক্ত, হিংস্র, বীভৎস! আবার এই মসলার যুদ্ধ প্রাচ্যের পরিবর্তনহীন পশ্চাৎমুখী সমাজের সামনে বৃহৎ বিশ্বের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বদ্ধ জীবনের উপরে দুরন্ত ঝটিকার আলোঢ়ন জাগিয়েছে, প্রচন্ড অত্যাচারের শক্তি স্বপ্ন-দেখা ঘুমন্ত মানুষকে চুলের ঝুঁটি ধরে টেনে তুলেছে!
ওটাও সত্য! এটাও সত্য! কোনটাই মিথ্যা নয়।"
________________________________
বই: মসলার যুদ্ধ
লেখক: সত্যেন সেন
________________________________
#bookreview #bengaliliterature #বাংলাসাহিত্য #সত্যেনসেন #মসলারযুদ্ধ #history #indianhistory #colonialism
রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২
Silence
Silence has its own burden of weight, which perhaps we can feel with a deep sense of admiration. It requires deep acknowledgement that you can see it with bare eyes, you can hear silence even you can touch silence.
Social manifesto has its loud sounds that shook the core of the Autocratic system where freedom can have its form, its agenda, its narrative. Silence gives it a form, word, place. You can feel it, you can touch it, you can move by it.
While standing in front of magnificent nature, silence can take you there where your inner self will feel the urge to combine your presence with the very nature to where your soul belongs to. Your inner anarchic and chaotic noise will have a form with the intervention of silence.
With silence, you will not feel like having a thousand words to describe your inner sensation.
It says that a singer, an artist needs to understand to hear the silence of the body, the silence of nature, those who can not sense it, can never be a true artist. A writer leaves a profound state of contemplation at end of his words with the hands of silence. You need to be silent to touch the silence. When it was time to say the last goodbye to your lover, you touch those hands, yet you touch that silence.
Our Space in and itself is the greatest epic of the silence.
বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
শেষ পান্ডুলিপি - নজরুল ইসলাম
"নিয়তিতে বিশ্বাস করেন?"
"একটি খুনের নেপথ্যে" দিয়ে লেখকের সাথে পরিচয় এবং ভাল লাগা। থ্রিলার ঘরানার ছিল। "শেষ পান্ডুলিপি" ভাল লাগা বাড়িয়েছে।
লেখকের লেখা সাবলীল, চরিত্রগুলির অঙ্কন দারুন। বই পড়ে যদি সময়, চরিত্রগুলিকে চোখের মাঝে ভেসে বেড়াতে না দেখি, তবে বই আলগোছে সরিয়ে রেখে দেই। কিন্তু এই লেখক ধরে রাখতে পারেন, তার সহজ লেখার ধারায়।
থ্রিলার ঘরানায় লিখতে গেলে খেয়াল রাখতে হয়, পাঠক খুব দ্রুত ইন্টারেস্ট হারায়, শুধুমাত্র "পরের পৃষ্ঠায় কি আছে" এই প্রশ্নটির অ্যাবসেন্স এর জন্যে। কিন্তু লেখক সেটা খুব চমৎকারভাবেই বজায় রেখেছিলেন।
লাইব্রেরীতে চেনা লেখকের বইটি হাতে নিয়ে যখন "প্রারম্ভ" অধ্যায়টি এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলি, তখন কিছুক্ষণ বুকে ব্যথা করছিল। তারপরই বই ব্যাগে গুজে বের হয়ে সোজা বাসায়।
কাহিনীতে দেখা যায়, এক লেখক, "নওরোজ মোস্তফা", বহু বছর পর এমন এক শহরে ফিরে আসেন, তার অতীত জীবনের এমন এক অধ্যায়ের উপর থেকে পর্দা তুলতে, যা পরিস্কার না হলে তার বায়োগ্রাফি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। সেই ভয়ংকর সত্যটির খোঁজে একের পর এক দৃশ্য, চরিত্রের আগমন। "নওরোজ মোস্তফার" অতীতের পঁয়ত্রিশ বছর ধরে জমে রাখা রহস্যের উপর থেকে ধুলোর স্তুপ সরতে থাকে, সত্য মিথ্যে হয়ে যায়, আর মিথ্যে হয়ে যায় ভয়ংকর সত্য।
শেষের ক্লাইমেক্স আসলেই দূর্দান্ত। "প্রারম্ভ" পড়ে যেমন বুকে ব্যথা করছিল, ঠিক তেমনি "শেষ অধ্যায়" মুখে একটা তৃপ্তির হাসিও দিয়েছে।
সুখপাঠ্য।
*লেখককে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ, "তিলোত্তমা" আমাদের বাড়ির নাম, (আপনাকে আমন্ত্রন), আমাদের "মা" এর নামানুযায়ী।
************************************************************
বই: শেষ পান্ডুলিপি
লেখক: নজরুল ইসলাম
রেটিং ৫/৫
#সাহিত্যানুশীলন
মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১
যে শহরে গল্প লেখা বারণ - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
কোন এলেবেলে কনসেপ্ট নয় একদমই, দারুন উপস্থাপনা, সাবলীল লেখনীর ছাঁচে লেখকের কল্পনার জগৎটা ভাল লেগেছে।
আর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এমনিতেই আমার পচ্ছন্দের একটি ঘরানা। কাজেই বইটি পড়তে গিয়ে বিন্দুমাত্র বিরক্তির আভাসও আসেনি। সুখপাঠ্য ছিল।
১৪৪ পাতার বইতে শেষের দিকে ক্লাইমেক্স এর উপর ক্লাইমেক্স। ছোট্ট একটি মফস্বল শহর, যেখানে ছোট অপরাধগুলোই নামমাত্র হয়, সেখানে খুন-খারাপি কিংবা ডাকাতির মতন ঘটনা অসম্ভব ধরনের। গল্প সেই শহরের, সেই শহরের বাসিন্দাদের। একটি বিনোদনমূলক পত্রিকা বের হয়, "গল্প হলেও সত্যি", কাল্পনিক অপরাধের গল্পগুলো গায়ে কাঁটা দেবার মতন, কিন্ত তা ভয়াবহতার পর্যায় পৌঁছোয় যখন তা বাস্তবে রুপ নিতে থাকে।
নিছোক বিনোদন, বাস্তব হয়ে দাঁড়ায়।
"মানুষের মধ্যে অন্যের ক্ষতি দেখার একটা প্রবণতা আছে, সীমিত পর্যায়ে। প্রবণতাটা মাত্রা ছাড়িয়ে বেশি হয়ে গেলে তাকে বলে স্যাডিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজর্ডার"।
আমাদের সমাজের মানুষগুলোর মধ্যে কি এর সংখ্যা বেড়েই চলছে!
"সুপারহিরো চরিত্র ভাবায় আমাদের, কিন্তু এই চরিত্রগুলোর কি কাজ যদি সুপারভিলেনই না থাকে। এভরি পজিটিভ এনার্জি এক্সপেক্টস নেগেটিভিটি।"
সুখপাঠ্য।
*********************************************************************************
বই: যে শহরে গল্প লেখা বারণলেখক: মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
প্রকাশনী: বাতিঘর
রেটিং: ৪/৫
শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
সূর্যতামসী - কৌশিক মজুমদার
সূর্যতামসী - কৌশিক মজুমদার
ভাল লেগেছে, এই ফ্ল্যাশব্যাকের চিত্রগুলি এক অন্যরকম থ্রিলিংস এর স্বাদ দিয়েছে। পেলাম উনিশ শতকের কলকাতার চিত্র, যেখানে খুন, সোনাগাছি, ম্যাজিক, পাগলাগারদের হাহাকার, ব্রিটিশরাজ, সাইকোলজি থেকে শুরু করে, আছে প্রাচীন হিংস্র চাইনিজ গুপ্তহত্যার কাহিনী, এমনকি ফ্রিম্যাসনও।
পাগলদের চিকিৎসা নিয়ে সেই উনিশ শতকে কি ভাবা হতো, কেমন করে চেষ্টা করা হতো তাদের সুস্থ করবার তার একটা চিত্র লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকারভাবে। বিজ্ঞানে অনেক কিছু সহজ করে পাবার জন্যে কি ভয়ংকর এক্সপেরিমেন্টের ভেতর দিয়েও আমাদের যেতে হয় তার একটা ছোট্ট গল্প। দুই যুগের দুই গোয়েন্দাদারের দাস্তান, সাথে পুলিশ ভাইরাও আছেন। এইরম আরোও কিছু সময়ের কাহিনী সমন্বয় এই বই।
অতীত, বর্তমানের ঘটনাগুলো প্যারালালভাবে চলে, আকর্ষন ধরে রাখে। এ একদম আয়েস করে কোন মেঘলা দুপুরে চায়ের কাপের সঙ্গী, আবার রাতের আঁধারেও বেড ল্যাম্প এর আলোতে মেলে ধরার যোগ্যতা রাখে।
এই গল্প শেষ হয়েও হয় নি। এটা প্রথম পর্ব। আশা থাকবে যে প্লট লেখক তৈরি করেছেন, পরের পর্বে যেন যথাযথ জাস্টিস হয়।
পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি।
**************
বইঃ সূর্যতামসী
লেখকঃ কৌশিক মজুমদার
রেটিংঃ ৪/৫
**************
#সাহিত্যানুশীলন #সূর্যতামসী #bookworm #koushikmojumdar
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
মারিবার হলো তার সাধ- সুস্ময় সুমন
সুস্ময় সুমন এর সাথে পরিচয় এই বইয়ের দ্বারা। "আঁধারের জানালাটা খোলা" এবং "যে ছিল অন্তরালে" এই দুটোও জোগাড় করেছি, লাইনে আছে। সে যাক গে, এই বইয়ের একটু আভাস শুধু শেয়ার করেছিলাম। থ্রিলার প্রেমীদের সাড়া পাই সঙ্গে সঙ্গেই। প্রথম পূর্বাভাস এর পাতাতেই লেখক লেখেন, "প্রিয় পাঠক, হাত-পা গুটিয়ে বসুন। শুরু হতে যাচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকর কুৎসিত এক প্রতিশোধের গল্প"। আমি সত্যিই একটু জমিয়ে বসি।
গল্পের গতি সাবলিল, চমৎকার, গ্রিপিং টাইপ। ক্লাইমেক্স এর জন্যে একদম শেষ অবধিই অপেক্ষা করতে হয়েছে। নৃশংসতার দৃশ্যগুলো আসলেই ভয়াবহ। মানুষের মনের অন্ধকার জগত, অসুস্থ মানসিকতা সত্যিই এমন ভয়াবহ হয়। পড়ার সময় মনে হয়েছিল, একসময় কেউ বোধহয় জিজ্ঞেস করেছিল আমায়, ভুতের ভয় আছে কি না আমার। উত্তর ছিল, আমি ভুতের চেয়ে বেশি "মানুষ"কে ভয় পাই! কারণ একটি মানুষ, আরেকটি মানুষকে ঠান্ডা মাথায় ১৬/১৭ টুকরো করতে পারে!
লেখকের এখন পেশা নাটক নির্মাণ। আমি বোধহয় এখনো তার কোন নাটক দেখেনি। কিন্ত ভালো লাগবে, উনি যা লিখেছেন এই বইয়ে, এইরম কাহিনী দিয়েই চমৎকার ওয়েব সিরিজ বাংলাদেশে নির্মাণ সম্ভব। মনে মনে তো কাস্টিংও করা হয়ে গিয়েছে আমার। গল্পে "তাহিতির" চরিত্রটি শেষ অবধি ... থাক স্পয়লার দেয়া ঠিক হবে না।
সুখ পাঠ্য অবশ্যই।
বই: মারিবার হলো তার সাধ
লেখক: সুস্ময় সুমন
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৯০
রেটিং: ৪/৫
গিলগামেশ- জাহিদ হোসেন
"যা চলে গেছে, তা কি কখনো আর ফিরে আসে?"
কাহিনীর গতি হঠাতই মনে হবে, কোথাও একদম পাল্টে গেল, কিন্তু নাহ। সুত্রপাত এর সাথে মধ্যখানের সংযোগ সাংঘাতিক ছিল। ফ্ল্যাশব্যাক ছিল দূর্দান্ত।
শেষের দিকে মনে হলো একটু কেমন জড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খারাপ লাগা বিন্দুমাত্র ছিলনা। সাসপেন্স ছিল, ছিল থ্রিলার, ভয়াবহতা। মিথোলজির মিশেলতো এক অন্য দুনিয়াতে নিয়ে যায়, যার ছাপ আমার এডিটেড বুকোগ্রাফিতে স্পষ্ট।
"লুপ্ত ধর্মাচার" জর্জ লুকাসের বই গুগল করে অস্থির, যার রেফারেন্স লেখক দিয়েছেন তার বইতে। কিন্ত ঘেঁটে দেখার পর জানতে পারলাম এটি নেহাতই তার কল্পনাপ্রসুত। মানে সেইই পর্যায়ের। এর জন্যেই রেটিং বাড়িয়ে ৫/৫ দিতে একটুও দ্বিধা করিনি।
সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল, জাদুকর কর্নেল কালাহান, দুটি দারুন চরিত্র।
"চোখের বদলে নিকষ কালো আঁধার ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে", কেমন একটা অদ্ভুত ভয় লাগা অনুভূতি।
এই সর্তকবার্তা সক্কলের জন্যেই...
"মনে রেখো গিলগামেশ, শিকারও একসময় শিকারীতে পরিনত হয়, আর শিকারী শিকারে।"
লেখক: জাহিদ হোসেন
রেটিং: ৫/৫
#সাহিত্যানুশীলন
বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১
এক অপ্রেমিকের জন্য -- তসলিমা নাসরিন
এই শহরেই তুমি বাস করবে,
ফাঁক পেলে কোনও কোনও সন্ধেয় এ বাড়ি ও বাড়ি খেতে যাবে,
খেলতে যাবে,
কে জানে হয়তো খুলতেই যাবে আলগোছে কারও শাড়ি
আমার আঙিনা পেরিয়েই কোনও বাড়িতেই হয়তো।
এ পাড়াতেই হয়তো দু’বেলা হাঁটাহাঁটি করবে,
হাতের নাগালেই থাকবে, হয়তো কখনও জানিয়েও দেবে আমাকে,
যে, কাছেই আছো,
কুঁকড়ে যেতে থাকবো, কুচি কুচি করে নিজেকে কাটতে থাকবো
দেখা না হওয়ার যণ্ত্রণায়,
তবু বলবো না, এসো।
বলবো না, তোমাকে সুযোগ দেব না বলার যে তোমার সময় নেই, বা ভীষণ ব্যস্ত তুমি ইদানিং
তোমার অপ্রেম থেকে নিজেকে বাঁচাবো আমি।
তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে না।
আরও অনেকগুলো বছর পর, ভেবে রেখেছি,
ভেবেছি বলবো,
এক ফোঁটা চোখের জল বর্ষার জলের মতো ঝরে ধুয়ে দিতে পারে
আমাকে একা বলে ভেবো না কখনো, তোমার অপ্রেম আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
"হার না মানা অন্ধকার"... তবুও বিশ্বাস করি আলোর জয়
লেখকের মুন্সিয়ানায় অভিভূত আমি। এটা লেখকের লেখা প্রথম পড়া বই। ক'টা দিন ধরেই হরর থ্রিলার ঘরানার কিছু খুঁজছিলাম, চমৎকার এক কথায়। ঐ যে বলেছিলাম, লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম হানা দেবার জন্যে, এটাকে সেখানেই পাই।
"হার না মানা অন্ধকার"... ১ম পর্ব। ঈশ্বর বিশ্বাস করলে, অপশক্তিকেও স্বীকার করতে হয়। কাহিনী চলছে, দূর্দান্ত এবং মুন্সিয়ানা বলেছি এই জন্যে, এক কাহিনী থেকে লেখক নিয়ে গিয়েছে আরেক কাহিনীতে, এক জগতের কাহিনীর মধ্যে আরেক জগত চলে আসছে, মনে হচ্ছিল মূল কাহিনী বুঝি এটাই। একটুও বিরক্তি আসছিল না, বরং আগ্রহ বেড়েই যাচ্ছে, উত্তেজনায় ভাটা পরেনি, প্রত্যেকটা চরিত্রতের অঙ্কন যথাযথভাবে।
শেষের বেলার ঘটনার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না, পরে মনে হলো, তা তো হবেই, কারণ পরের পর্ব আসছে। ভাগ্যিস, লাইব্রেরীতে ২য় পর্বটাও ছিল, না হলে মাথা গরমটা থামাতে পারতাম না। দূরদেশে এখন এই ২য় পর্ব পাবোটাই বা কোথায়! আর অপেক্ষা বড্ড খারাপ জিনিষ।
"সত্য-কলাম" এর প্রকাশক রফিক শিকদার এর লিখিত উপাখ্যানগুলোতে হারিয়ে যাবেন, সময় ভালো কাটবে। ১০৯ পৃষ্ঠার, পরিসর কম, কিন্তু চমৎকার। ২য় পর্বটাও পড়ার আগ্রহ জাগবে, যেমন আমি এখন শুরু করব।
********************
বই: হার না মানা অন্ধকার
লেখক: বাপ্পী খান
প্রকাশক: বাতিঘর, ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং
সাহর- শাহরিয়ার খান শিহাব
#পাঠপ্রতিক্রিয়া: "বড় হুজুর বলেন, 'শয়তান কাউকে নিজের দলে আসতে বাধ্য করে না। করতে পারেও না, সেই ক্ষমতাও তার নাই। সে শুধু আহবান করে, ফ...
-
~সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (১৯০৩ – ১৯৭৯) এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী (১৯১৪ – ১৯৯৯): একটি তুলনামূলক পাঠ~ লেখক: মনোয়ার শামসি সাখাওয়াত ব...
-
প্রথমেই বলব, "যাযাবর" এর "দৃষ্টিপাত" সার্থক নামকরণ৷ কেননা, যাযাবর হিসাবে.. দেশ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, রীতি-নী...

















