
সাহিত্যানুশীলন
সমালোচনাকারী বা ক্রিটিকস হবার ধৃষ্টতা দেখাইনা, হেতু নিজের সীমাবদ্ধতা! নিতান্তই "সাধারণ" এক সাহিত্যের রস আস্বাদনকারী হিসাবে পরিচিত হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সাধারণের চোখে সাহিত্যরথীদের সৃষ্টির দর্পনস্বরুপ এই--"সাহিত্যানুশীলন".... আমার সমাশক্তির আখড়া।
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
সাহর- শাহরিয়ার খান শিহাব

শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৪
লোভ- জে. আলী
কিছু গল্পে মাটির গন্ধ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় গ্রাম বাংলার মানুষের কষ্ট মাখা হাসি-কান্না, বেদনায় আশ্রিত গাঁথা। কিছু লেখায় গ্রাম্য জীবন যেমন সরলতা ও আগ্রাসন এর উলঙ্গ বীজ নিয়ে জীবন্ত, শহুরে কোলাহল ঠিক তেমনই প্রতাপে তার কলুষিত, মারপ্যাঁচে সজীব। এই লেখা সবার হাতে, সবার কলমে ঠিকঠাক ফুটেও উঠে না।
লেখকের লেখায় এই স্বাদ ঠিক সব সময়ই পাওয়া যায়। এর ব্যাখ্যা হতে পারে, লেখকের খুব কাছ থেকে দুটি জীবনের বাস্তবতারই অভিজ্ঞতা অর্জন, পর্যবেক্ষণের সজাগ চোখ আর জ্ঞানের তৃঞ্চা থাকা।
ব্যক্তিগতভাবে খুব কাছের জন বলেই উনার লেখার সাথে পরিচিত আগের থেকেই। লেখা অতিসরলীকরন করার অভ্যাস উনার নেই অথচ প্রাণবন্ত থাকে একদম ঠিকঠাক। সাধারণের পরিচিত ভাষা অথচ গম্ভীর, তাৎপর্যপূর্ণ। পড়ার পর ভাবতে হয়।
"লোভ" সেইরম গুটি কয়েক ছোট গল্পের সংকলন।
যেখানে "লোভ" সেই সুদূর জমিদারদের ইতিহাস শোনায় তো, "বাশারের ভুল" ও "সরীসৃপ" ঘুরিয়ে নিয়ে আসে শহুরে দালানকোঠার ভীরে হারিয়ে যাওয়া মানবিকতার অভিশাপময় জীবন থেকে। দীর্ঘশ্বাসের ভিড়ে বাতাস যেখানে খুব ভারী।
"বিলাপ", "পরিমলের মাছ", "ময়দুল ও একটি সাপ" গ্রামীণ জীবনের করুন সুরে বাঁধা এমন কিছু দৃশ্যপট দেখায় যেখানে সরলতার দহন হয় প্রতিনিয়ত। খেটে খাওয়া মানুষেরা আসলে বঞ্চনার গ্লানি বয়ে বেড়ায় সব ক্ষেত্রেই, সব যুগেই। হোক সেটা শহর কী গ্রাম, হোক তা ইতিহাস কী বর্তমান!
"রায়" দেখায় পাপের ছায়া কী ভয়ংকর ভাবেই না আমাদের ঘিরে রাখে। আমি বিশ্বাস করি, যে পাপী সে প্রতিনিয়তই আসলে ভেতরে এক অজানা আশংকায় থাকে কম্পিত। আমরা তা দেখি না কিন্তু তার অন্তর্দাহ চলতেই থাকে।
আর "প্রতিমা" এক অমীমাংসিত প্রেমের গল্প। যেখানে শুধুই হাহাকারে উপসংহার ঘটে।
লেখকের লেখা ভালো লাগার অন্যতম কারণ এতে নিছক শুধু গল্পই থাকে না। বরং থাকে জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতায় মোড়া নীতি আর ইতিহাসের উপস্থিতি। অজানা কিছু জানা যায়, শেখা যায়। লেখকের এক ব্যগ্রতার সাথে আমি পরিচিত খুব কাছ থেকেই, উনি জানাতে পচ্ছন্দ করেন, উনি শেখাতে চান নিজের যতটুকুই অর্জিত জ্ঞান আছে তা অকৃপণভাবে বিলিয়ে দিতে চান উনার শিক্ষার্থী, শিষ্যদের মাঝে। একসাথে চলতে চান জ্ঞানের পথ।
সেই পথের সঙ্গী আমিও হতে চাই প্রিয় শিক্ষক।
আজও মনে আছে ক্লাসের সেই কথা, আমার বই পড়ার অভ্যাসের কথা শুনে উচ্ছাস্বিত কন্ঠে বলেছিলেন,.... "যে বই পড়ে, আমার কাছে তার সাত খুন মাফ" । কী ভিষন আপন হয়ে গিয়েছিলেন স্যার ঠিক সেই দিন থেকেই, মনে হয়েছিল, যাক্, জীবনের এই বাঁকে এক পথপদর্শক পেলাম!
সুখপাঠ্য।
******************************************
লেখক: জে. আলী
প্রকাশক: কলী প্রকাশনী
পৃষ্ঠা: ১১২
রেটিং: ৩/৫
বুধবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৪
তারাফুল - আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব
ভালবাসার পদ্মমূলে শুধুই সৃষ্টিকর্তার আসনকে অঙ্কিত করার প্রয়াস প্রশংসনীয়, সাথে উৎসাহমূলক বহু প্রেমিক সত্ত্বাদের জন্যে। নিজেরাই প্রশ্ন করবে, "নিখাদ ভালবাসা প্রকৃতপক্ষে কার জন্যে হওয়া উচিত।"
"কুমড়ো ফুলের ঘর" বুকের কোথায় যেন বেদনার এক সুর জাগিয়ে দিয়েছিল। নিজের ফুপুর কথা মনে পরেই হয়তো।
"চলো, ফিরে যাই" বিশেষ করে অনুপ্রানিত করেছে। সত্যিই শৈশবের সারল্যকে ধারন করে রাখলে, বর্তমানের জটিল জীবনধারার মারপ্যাঁচকে খুব সহজেই বাগে আনা যায়। আমার নিজের এক স্মৃতি প্রায়ই কাঁদায় আমায় যখন ভাবি তেমন নিখাদ বিশ্বাস, ইয়াকিন, ঈমান কই হারালো আমার!
রমজানের সময় ছিল, আর আমি অনেক ছোট। মনে হয় ২/৩ তে পড়ি। আব্বাকে প্রতিদিন বলতাম তারাবিহ থেকে ফেরার পথে যেন আমার জন্যে হাজমোলা নিয়ে আসে। আব্বা প্রতিদিনই ভুলে যায়। ইফতারকে সামনে রেখে দুআ করলে তা কবুল হয় এটা আম্মুর কাছ থেকে জানার পর সেই বিশ্বাসে ইফতারিতে সেদিন আল্লাহর কাছে বলি, "আল্লাহ আজকে আব্বা যেন আমার জন্যে হাজমোলা নিয়ে আসে"। সেদিন আর আব্বাকে মনে করিয়েও দেই নি। সুবহানাল্লাহ, আব্বা সেদিন নিয়ে আসে, আমি না বলা সত্ত্বেও। আমার সে কি আনন্দ, হাজমোলা পেয়ে যতটা নাহ, দোয়া এইভাবে কবুল হয়ে এটা ভেবেই। তারপর কত জল গড়ালো! নিজের বিশ্বাসের আয়নায় জাগতিক মোহে ধুলোর আস্তরণ পরতে রইল।
আজও কষ্ট হয়, আল্লাহর কাছে চাই আমার শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া ইয়াকিন, বিশ্বাস আল্লাহপাক আবার জীবন্ত করে দিক, আমীন।
সুখপাঠ্য।
*******************************************
বই: তারাফুল
লেখক: আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠা:১৪৯
সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩
নূর- লতিফুল ইসলাম শিবলী
নূর- লতিফুল ইসলাম শিবলী
কাহিনীতে উঠে আসে পলাশী যুদ্ধের পরবর্তী তিন দশকের ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, এক দীপ্তমূর্তি "ফকির মজনু শাহ", এক মহান সুফি সাধক। তাঁর সুদৃঢ় ইমানী জজবা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমগ্র হিন্দু-মুসলিম অধিকার বঞ্চিত মূলত কৃষক মজলুমদের সংগঠিত করে এক চাদরের নিচে। ঐক্যবদ্ধ হয় হিন্দু সন্ন্যাসী ও ফকির দরবেশ।
- "দানব দেখতে চোখ লাগে, মানুষ দেখতে লাগে অন্তর"।
অবশ্য পাঠ্য।
**************
বই: নূর
লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী Latiful Islam Shibli
প্রকাশক: নালন্দা
Goodreads rating: 4/5
***************
মুক্ত বাতাসের খোঁজে
মূল- লস্ট মডেস্টি
****************
বই: মুক্ত বাতাসের খোঁজে
লস্ট মডেস্টি Lost Modesty
প্রকাশনা: ইলমহাউস পাবলিকেশন
Goodreads rating: 5/5
পৃষ্ঠা : ২২৭
*****************
বিখন্ডিত- রবিন জামান খান
কিন্তু বেশি কথা বলা হয়ত একটু উনার স্টাইল, যা না আ্যড করলেও হয়। মনে হয় পরিসর ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে বাড়ানো হচ্ছে। "ব্ল্যাকবুদ্ধা" পড়ে তাই মনে হয়েছিল।
পরিশেষে,
উত্তেজনাপূর্ন পাঠ্য, সুখপাঠ্য।
*************
বই: বিখন্ডিত
লেখক: রবিন জামান খান
প্রকাশনা: নালন্দা
পৃষ্ঠা :৩৬৮
Goodreads rating: 4/5
শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩
আউরা- কার্লোস ফুয়েন্তেস
--------------
কার্লোস ফুয়েন্তেস
জন্ম: ১১ই নভেম্বর, ১৯২৮ (পানামা সিটি, পানামা)
মৃত্যু: ১৫ই মে, ২০১২ (মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো)
--------------
"আউরা" প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬১ সালে, এবং সেই থেকেই একটি স্থায়ী অসাধারণ অবদান হিসাবে মননিত।
"আউরা" উপন্যাসটি ফেলিপে মনতেরো আর ১০৯ বছরের বৃদ্ধা কনসুয়েলোর, যিনি তার স্বামীর স্মৃতিকাহিনী সম্পাদনার জন্যে কাউকে খুঁজছিলেন। কিন্তু শর্ত জুড়েছিলেন, বৃদ্ধার বাড়িতে থেকেই কাজ করে যেতে হবে।
.......
"...তুমি তাই আর ঘড়ির দিকে তাকাও না। এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসটা শুধু মানুষের অহমিকা প্রকাশ করার জন্যে ক্লান্তিহীনভাবে সময় মেপে যাচ্ছে।..... প্রকৃত সময় তো আসলে মরণশীল, যার কাজ হলো ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলা, একে পরিমাপ করা কোনো ঘড়ির পক্ষেই সম্ভব নয়। এক জীবন, এক শতাব্দী, পঞ্চাশ বছর: অর্থাৎ ওই বানোয়াট মাপকাঠি দিয়ে তুমি আসল সময়কে কখনো কল্পনাও করতে পারবেনা। সময় নামে ঐ অশীরীরী ধূলিকণা তুমি হাত দিয়ে কোনো দিন ধরেও রাখতে পারবে না।"
-".. তুমি তোমার অন্য অর্ধেককে খুঁজছো, যে দ্বিতীয় সত্তার জন্ম হয়েছে গত রাতের ওই নিস্ফলা কল্পনার গর্ভে।"
সুখ পাঠ্য।
বই: আউরা (Aura)
লেখক: কার্লোস ফুয়েন্তেস
অনুবাদক: আলীম আজিজ
প্রকাশক: প্রথমা
****************
#বইপরিচিতি #bookreview #bookworm #aura #CarlosFuentes #latinliterature
মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩
অন্তিম- লতিফুল ইসলাম শিবলী
"প্রকাশ্য যুদ্ধের আগে এখন এই গোপন যুদ্ধটাই-
The Beginning of the End."..........
-------------
আমি রীতিমতোন বলা চলে গুণমুগ্ধ পাঠক হয়ে পড়েছি লেখকের। "দারবিশ" ছিল উনাকে লেখক হিসেবে জানার প্রথম ধাপ, "আসমান" দ্বিতীয়।
AI, মিডিয়ার জগতে ম্যানুপুলেটেড চিন্তাধারা নিয়ে আমরা এতটাই অন্ধ যে ভাল-মন্দের বিচারের বোধ কখন হারিয়েছে সেটাও অজ্ঞাত।
"The fiction based on fact"
টপিকটাই এমন যে আমাদের গতানুগতিক চিন্তার, চলনের বাইরে মনে হয় বিধায়, আমরা এর একটা এলিট নাম দেই, "Conspiracy theory"! আসলেই কী তাই!!
লেখার গাথুনি, গতি অসাধারণ। খুব সেনসিটিভ অথচ অনেক সহজ, তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। উনি এমন সব সেনসিটিভ বিষয়গুলোতে আলোকপাত করছেন, যেখানে অনেকেই বর্তমান সো কলড "প্রগতিশীল" সমাজে জাত যাবার ভয়ে ধারের কাছেও ঘেঁষে না।
"ইমাম ইউসুফ মাহমুদের" মতন হবার স্বাদ জাগে। কেননা কোথায় যেন নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাই।
বইয়ের খানিক অংশ...
"ইমাম স্মিত হেসে বললেন-
নবী (সা:) এর অবমাননা হলে মুসলিমরা জীবন দেয়। কিন্তু নবীর কথা বিশ্বাস করে না। মুসলিমরা পারমানবিক যুদ্ধ বোঝে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বোঝে। কিন্তু নবী (সা:) এর বলা "মালহামা" বোঝে না। মুসলিমরা অবৈধ নবীন রাস্ট্র ইজরাইলের শক্তিমত্তা, বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব এবং গুরুত্ব ঠিকই বোঝে। কিন্তু বোঝেনা সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে নবী (সা:) এর ভবিষ্যৎবাণীর মর্ম -
"কেয়ামতের আগে মদিনার গুরুত্ব কমে যাবে। জেরুজালেমের গুরুত্ব বেড়ে যাবে"।
- (আবু-দাউদ)
আমাদের জানা আর বিশ্বাসের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। আমরা জানি কিন্তু বিশ্বাস করি না, আমাদের জীবনযাত্রা বিশ্বাসের অনুগামী নয়। কিন্তু অন্যরা যা বিশ্বাস করে সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করে বলেই লিডারশীপ তাদের হাতে।"................
অবশ্য পাঠ্য।
#সাহিত্যানুশীলন
*************
লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী
প্রকাশক: নালন্দা
Goodreads rating: 4/5
************
#বইপরিচিতি #bookreview #bookworm #অন্তিম #পাঠপ্রতিক্রিয়া #বাংলাসাহিত্য
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩
অল্প কিছু আলো-দেবেশ রায়
অল্প কিছু আলো-দেবেশ রায়
"আমাদের ভালো থাকা নিয়ে বলা কথা"
------------
দেশভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে কিংবদন্তিতূল্য একজন, পশ্চিম বঙ্গের দেবেশ রায়।
এই প্রবন্ধ গ্রন্থে দেবেশ রায় কথা পেড়েছেন অনেক বিষয়েই। আমাদের ভালো থাকা নিয়ে, কখনওবা খুব মশকরার ছলে 'আমরা যে আসলে ভালো নেই' বা পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চে ভালো থাকার অভিনয় সং সেজে করে যাই, তারই চিত্রায়ণ করেছেন।
৬০ এর দশকে, "কী বলবো" আর "কীভাবে বলবো" নিয়ে এক তর্ক উঠে। দেবেশ রায়, "কীভাবে বলবো" এই শর্ত মাথায় নিয়েই হয়ত স্টাইলে এতো ভিন্নতা নিয়ে খেলেছেন। শব্দ, বাক্যগঠনে ভাষাকে যে ভারে ভারী করেছেন, আমার কতক জায়গায় দু'তিন বার পড়তে হয়েছে এর গুরার্থ উদ্ধার করতে।
তারই সমসাময়িক এই বাংলার কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাই বলেছেন....
"ভাবনার চিত্রণ, অনুভবের চিত্রণ, উপলব্ধির চিত্রণ, বোধের চিত্রণ! এত দায় কি ভাষা নিতে পারবে? ভাষাকে দিয়েই তিনি এই অসাধ্য সাধন করিয়ে নেবার চেষ্টার করেন।.....
.....লেখকজীবনে দেবেশ যতই এগোচ্ছেন ততই তাঁর লেখা ঘোর জটিল হয়ে উঠছে। সরল বাক্যও তাঁর সহজতার সীমানা পার হয়ে প্রায় অবোধ্য একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো মনে হয় দেবেশ রায়ের একে একটি বাক্য যা ধরতে পারে, তার অতিরিক্ত ভার নিয়ে অনেক সময় টলমল করতে থাকে। আমার নিজের ধারণা, এটাকেই হয়তো আয়েশি পাঠক ভারাক্লিষ্টতা বলে মনে করে।"
"সামান্য অমান্যতা"য় তার হাসান ভাইয়ের উদ্দেশ্যে চিঠিও ছিল। "নামায আমার আদায় হইল না" এ ব্যক্ত ছিল "সেলিম আল দীন"কে হারাবার বেদনা।
"আধুনিকতা, আমাদের আধুনিকতা ও অন্য আধুনিকতা" প্রবন্ধে পোষ্টমর্ডানিজমকে নিয়ে ছিল প্রশ্ন।
... "আধুনিকতার পরের যে নতুন আধুনিকতার কথা আমি ভাবছি- তা কোন খোঁড়া তত্ত্ব নয়, তা কেন্দ্রিকতাকে অস্বীকার করা এক পরিধিকে সত্য করে তোলার সক্রিয়তা। কেন্দ্রহীন পরিধি- এমন কল্পনার মধ্যে স্ববিরোধীতা আছে। সেই স্ববিরোধী দ্বন্দ্বকেই আমি খুঁজছি। আমাদের এই এখনকার, এই বর্তমানের দ্বান্দ্বিকতা।"
সুখ পাঠ্য।
#সাহিত্যানুশীলন
**************
বই: অল্প কিছু আলো
লেখক: দেবেশ রায়
প্রকাশনা: অভিযান পাবলিশার্স
**************
বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩
নরকে এক ঋতু- র্যাঁবো
-অনুবাদ: লোকনাথ ভট্টাচার্য
৩৭ বছর জীবনে কবিত্ত্বের সময় মাত্র পাঁচ বছর। আর তাতেই দাপটে প্রশ্ন করে গিয়েছেন, প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন গভীর জীবনবোধের সব প্রহেলিকার।
উনিশ শতকের কবিদের মধ্যে যারা এই একবিংশতেও সাড়া জাগান দোর্দন্ডপ্রতাপে, তাদেরই একজন এই ফরাসী কবি "জাঁ আর্তুর র্যাঁবো"। "নরকে এক ঋতু" একমাত্র কবিতার বই, সাতটি অধ্যায় নিয়ে।
সাহিত্যের এই বিচিত্র শাখা "কবিতা"য় আমার অক্ষরজ্ঞান খুবই নগন্য। শশুড়বাবার পাঠাগারে ঘুরপাকের ফলেই হয়তবা আগ্রহ জমতে শুরু হচ্ছে।
র্যাঁবোর স্বল্প পরিসরের জীবনে মাত্র ১৪ বছরে কবিতার শুরু যার সমাপ্তি ২০ গিয়ে। আমার আকর্ষনের হেতু হয়তবা এটাই, যে সেই অল্প বয়সেই কলমের ধারে উঠে এসেছে বিদ্রোহ, বিপ্লব, সামাজিক সংস্কৃতি, আচারের উপর ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন, অথচ লেখনীতে পরিপক্কতা। কোন উদ্ধত নাস্তিকের প্রশ্ন নয় বরং এ যেন নিজেকেই বার বার দহনে জালিয়ে ফিনিক্স পাখি হবার প্রয়াস।
"পবিত্রতা!
জাগরণের এই ক্ষণটিই আমাকে দেখালো সেই পবিত্রতার আলো- আত্মাই মানুষকে টানে ঈশ্বরের পথে!..
কী মর্মভেদী দুর্ভাগ্য!"
অবশেষে....
"এই মনোহর মজুরগণের তরে,
ব্যাবিলনিয়ার অধীশ্বরের দাস হয়ে থাকে যারা।
ভেনাস, তোমার অনুরাগীদের ত্যাগ করো ক্ষণতরে।
যাদের হৃদয় চেনে নি কিছুই মুকুট ছাড়া।"
#সাহিত্যানুশীলন
*****************
লেখক: র্যাঁবো (Jha Artur Rabo)
অনুবাদক: লোকনাথ ভট্টাচার্যপ্রকাশক: সঞ্জয় সামন্ত, এবং মুশায়েরা (কলকাতা)
****************
বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩
আল্লামা ইকবালের মেটাফিজিকস
ইকবালের আধ্যাত্মবাদ
প্রতীচ্য ও প্রাচ্য, প্রাচীন ও সাম্প্রতিক, অতীন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়বাদী জ্ঞানের সম্মিলনস্থল হিসেবে আল্লামা ইকবালকে পাঠ করার যে প্রয়োজনীয়তা আমাদের জ্ঞানতত্ত্বে তীব্র হচ্ছে, এ বই সে প্রয়োজনীয়তার প্রতি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
লেখক ইকবালের দর্শনের অধিবিদ্যা নিয়ে যে আলোচনা এবং উপস্থাপনা তাই নিয়েই ঘেঁটেছেন, যা মূলত তার "Metaphysics in Persia" & "Reconstruction of religious thoughts in Islam" বইকেই ভিত্তি বানিয়ে উপস্থাপন করা।
ইকবাল বার্গস, নিটশে, ম্যাকটাগার্টকে অধ্যয়ন করে মূলত আত্মার প্রকৃতি ও ইচ্ছাশক্তি মূল ধরে অনুপ্রাণিত হয়েছে চিন্তার ক্ষেত্রে কিন্তু পরিপূর্ণ তৃপ্ত হতে পারেন নি। ইকবাল স্রষ্টার জ্ঞান, আত্মার জ্ঞান ও অমরত্বের জ্ঞানকে দৃঢ়তার সাথে সামনে নিয়ে এসেছেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শনের সাথে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে।
ব্যক্তিগত মতামত, অনুবাদের সময় স্বাভাবিকভাবেই মূল কিছুটা ব্যহত হয়, তা মাথায় রেখেই হয়ত শব্দচয়ন, উপস্থাপনে আরও কিছুটা পারদর্শিতা দেখানো যেত। যেহেতু লেখক এতে আল্লামা ইকবাল ও অন্যান্য দার্শনিকদের তুলনামূলক আলোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, এবং বইয়ের শেষে পাদটীকায় ইকবাল ও অন্যান্য বইয়ের তালিকা সংযুক্ত করে দিয়েছেন, আশা করা যায় অনুসন্ধিৎসু পাঠক সেখান থেকে গভীর জ্ঞান আহরনের রসদ পাবে।
আমার স্বল্প জ্ঞানের দ্বারা এই কথার মর্মকে পুরোপুরি বিশ্বাস করি.....
"চিন্তার দ্বারা অর্জিত সকল জ্ঞানই আপেক্ষিক। আবার এটা কেবল আভাসও বটে। কিন্তু স্বজ্ঞার দ্বারা হৃদয়ে উদিত জ্ঞান দিয়ে আমরা পরম পর্যন্ত পৌঁছতে পারি।"
#সাহিত্যানুশীলন
বই: আল্লামা ইকবালের মেটাফিজিকস
লেখক: ড. ইশরাত হাসান ইনভার
অনুবাদ: মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি
Goodreads: 4/5
***********************************
সাহর- শাহরিয়ার খান শিহাব
#পাঠপ্রতিক্রিয়া: "বড় হুজুর বলেন, 'শয়তান কাউকে নিজের দলে আসতে বাধ্য করে না। করতে পারেও না, সেই ক্ষমতাও তার নাই। সে শুধু আহবান করে, ফ...

-
~সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (১৯০৩ – ১৯৭৯) এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী (১৯১৪ – ১৯৯৯): একটি তুলনামূলক পাঠ~ লেখক: মনোয়ার শামসি সাখাওয়াত ব...
-
"মানুষের যন্ত্রণার শেষ আমি দেখতে পাই না। যখনই একটা যন্ত্রণার শেষ হচ্ছে বলে মনে হয় তখনই মানুষ নতুন যন্ত্রণাকে আবিস্কার করে বসে এবং এভাব...